pritha-editedপৃথা তা

সব রাস্তা গিয়ে মেশে রোমে । সিনেমা এবং বিশেষত নাটকের ক্ষেত্রে এই কথাটা বার বার বলা চলে । এবার সেই সাবেকি রাস্তায় হাঁটলেন অঞ্জন দত্ত । হ্যামলেটের আদলে হল হেমন্ত । এখনও শেক্সপিয়ারকে নিয়ে কাজ করতে গেলে একটা বড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয়।  অঞ্জন কেমন বুনলেন তাঁর হ্যামলেট ?
গল্পটি একটি চলচ্চিত্রের সাথে জড়িয়ে থাকা পরিবারকে নিয়ে । সেই পরিবারের ছেলে হেমন্ত (হ্যামলেট ওরফে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) নিউইয়র্ক পাড়ি দেয় চলচ্চিত্র পরিচালনা শিখতে । তার সাথে ছবিতে সারাক্ষণ সাযুজ্য রেখে সঙ্গত করে গেলেন তার বন্ধু হীরক (হোরাশিও ওরফে যিশু সেনগুপ্ত)। স্ক্রিনে এদের তালমিল , দ্বন্দ দেখতে বেশ ভালোই লাগে ।
বিদেশে বড় কর্মযোগ এলেও ভাগ্যচক্রে কলকাতায় নিজেদের পুরনো জায়গায় এসে পৌঁছায় হেমন্ত । ততদিনে তার বাবার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । তার মা গায়ত্রী সেন (গারট্রুড ওরফে গার্গী রায়চৌধুরী ) এক প্রাক্তন অভিনেত্রী । হেমন্ত যখন পৌঁছয় কলকাতা, গায়ত্রী ততদিনে তার কাকা কল্যাণের (ক্লডিয়াস ওরফে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েছে, তারা বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছে । কিন্তু এই সম্পর্ক চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায় হেমন্তের । তার বদ্ধমূল ধারণা জন্মায় যে তার বাবার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, খুন। তার ভিতর জেগে ওঠে তীব্র প্রতিশোধ স্পৃহা । এই সময়েই সে সঙ্গে পায় তার বাল্যবন্ধু , সাংবাদিক হীরককে ।  
শাশ্বত তার স্বভাবসুলভ ঢঙেই নিজের চরিত্র অনুযায়ী সুন্দর। তবে গার্গীর অভিনয়ে আরও কম ‘লাস্য’ হলে ভালো লাগত বলে মনে হয় । আর অলিপ্রিয়া (ওফেলিয়া ওরফে পায়েল সরকার)-এর অভিনয় বড্ড বেশি “লাউড” মনে হয়েছে । ছোট চরিত্রে মন ছুঁয়ে গেছে উরি (শুভ্রসৌরভ দাস), রাজু (সাগ্নিক চ্যাটার্জি) ।
তবে ছবির শেষটা একদমই যুত করে উঠতে পারেননি পরিচালক। মূল গল্প থেকে সরে এসে কাহিনিকে নতুন মোড় দিতে গিয়ে গল্পের অনেক কিছু বাদ গেছে, যা না গেলেই হয়ত জমত ভাল ।

সারাদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর, নিরক্ষর শ্রমিকদের মদের ভাঁটি থেকে বের করে সেই সময় অ্যাম্ফিথিয়েটারমুখী করেন শেক্সপিয়ার , ফলে তার নাটক জুড়ে সবসময়ই থাকত খুন, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া, আত্মা , রহস্যমৃত্যু ইত্যাদির আধিক্য, যা সহজে মন ছুঁয়ে যায় । সেই গল্পের ছাঁদ এখনকার মত করে বোনা খুব সহজ নয় । ছবিতে শেক্সপিয়ারকে ধরার জন্য যেমন টানটান সিনেমাটোগ্রাফির দরকার ছিল, তা পাওয়া যায়নি। দু’ঘণ্টা ছাব্বিশ মিনিট ধরে চলা ছবিতে ডায়লগও বেশ ক্লান্তিকর মাঝে মাঝে । আর অঞ্জনবাবু ছবিতে ডায়লগের মাধ্যমে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টাটা একটু কমালে চিত্রনাট্য আরও জমাটি হবে বলে আশা করা যায়। তবে মায়ের সাথে হেমন্তের কথোপকথন বেশ ভালোলাগার মুহূর্ত তৈরি করে ছবিজুড়ে ।
ছবির গানগুলি মন ছোঁয়নি। অঞ্জন দত্তের ছবিতে গান নিয়ে বাড়তি আগ্রহ থাকেই। সঙ্গীত পরিচালক নীল দত্ত আরেকটু যত্নবান হলে পারতেন এব্যাপারে ।
এই শ্রাবণে, বৃষ্টির সাথে ভূতের গল্প তো বাঙালির বরাবরের প্রিয় , হেমন্তকেও কি সেই তালিকায় রাখবে দর্শক? সন্দেহ থাকছে।  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here