মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়

ছোট ছবি, তাই বেশি কথা বলার নেই। ছবি দেখতে সময় লাগবে ১২মিনিট। তবে ‘দ্য ডোর বেল’ শেষ হওয়ার পর রেশ থাকবে বহুক্ষণ। সাসপেন্স থ্রিলারের মোড়কে আজকের এক ঘোর দুঃসময়ের গল্পকেই তুলে ধরেছেন পরিচালক রাহুল চৌধুরি।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সম্ভবত স্কিজোফ্রেনিক। অজানা ভয়, অকারণ সন্দেহ তাকে গ্রাস করে চলেছে ক্রমাগত। সমাজ, পারিপার্শ্বিক থেকে একলা হয়ে সে বানিয়ে ফেলেছে তাঁর ‘মেক বিলিফ’ জগত। বেল বাজলে সাড়া দেন না, নিজেই পুলিশ ডেকে দরজা খোলেন না। একসময় যারা ছিলেন কাছের মানুষ, তাঁদের ‘শেষ’ করে ফেলেন, তবু কাছছাড়া করেন না, যত্ন করে প্লাস্টিকে মুড়ে রেখে দেন ফ্রিজারে। এ বিকৃতি তো কি শুধুই এক অসুস্থ মনের? এক এক করে চারপাশের সবকটা আলো নিভতে থাকা সমাজও কি একে পরোক্ষ প্রশ্রয় দেয়নি দিনের পর দিন?

ছবিতে আবহ বেশ জুতসই। মেলানকোলি আর সাসপেন্সের মিশেল যথাযথ। তবে স্নানঘরে কমোডে বসে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা ঘাঁটার দৃশ্যের কোনো প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাওয়া গেল না। তিতাসের অভিনয় আমাদের অবাক করে। ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয়, অপরাধমনস্কতা কোন স্তরে পৌঁছোলে একটা অচেনা মানুষকে নির্লিপ্ত মুখে খুন করে ফেলা যায়, তা ভাবার বিষয়। জানার ইচ্ছে থাকল এ সব মানুষের ফেসবুক প্রোফাইলগুলো কেমন দেখতে হয়। ওরাও কি অবসরে গান শোনে? জ্যোৎস্নায় কাশবনে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here