teapot

নিজস্ব সংবাদদাতা: চায়ের দোকান এই শহরের মোড়ে মোড়ে। চায়ের মৌতাতে আলস্য কাটানো হোক বা জড়িয়ে পড়া তর্কে-বিতর্কে- বাঙালি পিছ-পা হয় না। বাঙালির এই চা-তকবৃত্তিতে চলতি শীত মরসুমে বিশেষ প্রশ্রয় এল ভারতীয় জাদুঘরের সৌজন্যে। তা বলে, জাদুঘর প্রাঙ্গণে কোনো চা-পানের উপযোগী রেস্তোরাঁর উদ্বোধন হয়নি। বরং, অতীত শতাব্দীর পথে হেঁটে সে কাল আর এ কালের চা-পান-উতোরের বৃত্তান্তে মেতেছে জাদুঘর। ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু করেছে শুধুই চা-পানের পাত্র নিয়ে এক বিশেষ প্রদর্শনী। ‘ইটস টি টাইম’ নামের এই প্রদর্শনী চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এই প্রদর্শনী জুড়ে থাকছে অতীত সময়ের বিস্ময়কর সব চা তৈরির পাত্র। থাকছে চা-পানের সরঞ্জামও। শিল্পনৈপুণ্যে যার প্রতিটিই সমান ভাবে নিজেকে তুলে ধরার দাবি রাখে। চায়ের জন্মভূমি চিন যেমন সে তালিকায় রয়েছে, তেমনই আবার রয়েছে তিব্বত, নেপালের মতো দেশের চা-বিলাসিতার নির্দশনও। বাদ যায়নি মাইসোর রাজবংশের বিশেষ চা-পাত্রের সম্ভারও।

এত কিছুর মধ্যে অবশ্যই একটু আলাদা সময় দিতে হবে অষ্টাদশ শতাব্দীর তিব্বতের এক চা-পাত্রকে। ওটাই যে এই প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ! বৃহদাকার এই তামার পাত্রটির গায়ে রয়েছে হাতে খোদাই রুপোর নয়নমনোহর কারুকাজ। আর পাত্রটির হাতল, মাথাকে আবেষ্টন করে রয়েছে একটি ড্র্যাগন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই পাত্রটির ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা না গেলেও একটা ব্যাপার অনুমান করে নিতে অসুবিধা হয় না। এই পাত্রটি ব্যবহৃত হত জনসমাগমের চা-বিলাসকে তৃপ্ত করতে। বিশাল আয়তন অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। যা ১৯১৯ সালে এসে পৌঁছেছিল জাদুঘরে। এ ছাড়াও প্রদর্শনীটিতে আলাদা করে নজর কাড়বে নেপালের অষ্টাদশ শতকের এক চা-পাত্র। তামা আর পিতলের যুগলবন্দীতে নির্মিত এর শিল্পকলা অতীত শতাব্দীর ঘ্রাণ এনে দেবে নাসাপথে।

তবে শুধুই ধাতু নয়। প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে উনিশ শতকের এলাহাবাদি চিনেমাটির চা-পাত্রও। বিশেষ করে মাটির এই চা-পাত্রের সম্ভারে মুগ্ধ করবে অভ্রের প্রলেপ দেওয়া আজমগড়ের পোড়ামাটির চায়ের বাসন।

ভারতীয় জাদুঘরের সম্ভারে এরকম বহু প্রচীন শিল্পনিদর্শন রয়েছে। ভারতীয় জাদুঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার প্রাচীন জিনিসপত্র আছে। তার মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ দেখার সুযোগ পান। স্থানাভাবে বাকি জিনিস সংরক্ষণ করে রাখতে হয়েছে। চা-পাত্রের এই বিশেষ প্রদর্শনী সম্পর্কেও সে কথা প্রযোজ্য। সেই সংরক্ষিত জায়গা থেকেই এই জিনিসপত্রগুলি এবার প্রকাশ্যে আনা হল। এবার নতুন বছরের বিশেষ উপহার হিসাবে এই প্রর্দশনী একটা বড় জায়গা করে নেবে বলেই মনে করছেন জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় জাদুঘরের শিক্ষা অধিকর্তা সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, “শুধু ভারতের নয়, বিদেশের বিভিন্ন দেশের চা-পাত্রগুলি এই প্রর্দশনীতে রাখা হয়েছে। চিন দেশ থেকে নেপাল- যে জিনিসপত্রগুলি আগে কেউ কোনো দিন দেখেননি। প্রতিটি জিনিসপত্রের একটি আলাদা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। যা মানুষকে খুবই আকৃষ্ট করছে”।

ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here