titas_paulতিতাস পাল

এবার আর মণ্ডপে মণ্ডপে শোভা পাবে না জলপাইগুড়ির ‘ছোটো দুর্গা’। ছোটো দুর্গার শিল্পী দেবাশিস ঝা স্মৃতিভারে আক্রান্ত, এবার শিল্পসৃস্টির কাজে  মন দিতে পারেননি।

জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন রাখালদেবীর বাসিন্দা দেবাশিসবাবু পেশায় পুরোহিত। যদিও তাঁর নেশা প্রতিমা তৈরির। তবে সাধারণ ৮-১০ ফুটের প্রতিমা নয়। তাঁর ‘স্পেশালিটি’ ছোটো দুর্গা। উচ্চতায় মেরে কেটে ১ ফুট, বা তারও ছোটো। তার একচালা প্রতিমায় স্থান পায় শিব-সহ পুরো ‘দুর্গা ফ্যামিলি’। বাদ থাকে না মহিষাসুর, সিংহও। কাঠ ও কাচ দিয়ে তৈরি কারুকার্য করা শোকেসে রাখা শিল্পীর তৈরি দুর্গাপ্রতিমার খ্যাতি জেলা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাইরেও। ভুটান, অসম, নেপাল থেকে প্রতি বছর বায়না আসে। সেখাকার প্রবাসী বাঙালিরা দেবাশিসবাবুর ছোট্ট প্রতিমা দিয়ে পুজো করেন। কারণ দূর দেশে মা দুর্গার প্রতিমা অমিল। এখান থেকে বড় সাইজের প্রতিমা নিয়ে যাওয়ারও অনেক হ্যাপা।

 আর শুধু দূর দেশেই নয়, এখানেও সাধারণ বারোয়ারি পুজোর মণ্ডপে বড় প্রতিমার পাশেও জায়গা পায় ছোটো দুর্গার চালচিত্র। অনেকে আবার বাড়িতে সাজানোর জন্যও নিয়ে যান শিল্পীর এই সৃষ্টি।

তবে এবার আর কোনো কিছুই হচ্ছে না। কাজ শুরু করেও শেষ করতে পারেননি দেবাশিসবাবু।

গত বছর দশমীর পরদিন বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় শিল্পীর ছোটো ভাই, পেশায় নিরাপত্তারক্ষী শুভাশিস ঝা-র। মাত্র ২৭ বছর বয়সে সদ্যবিবাহিত ভাইয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি দেবাশিস। নাড়া দিয়ে গিয়েছিল তাঁর শিল্পীসত্তাকে। কারণ এই ছোটো দুর্গা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল শুভাশিসেরই। প্রতিমার রূপ দেওয়া থেকে শুরু করে অঙ্গসজ্জা, সবেতেই দাদাকে সাহায্য করতেন ছোটো ভাই।jal-2

কাজ করতে বসলেই সেই স্মৃতি ভেসে উঠছে দেবাশিসবাবুর মনে। হাত কেপে উঠে থেমে যাচ্ছে তুলি, অসম্পূর্ণ থেকে গেছে প্রতিমার অঙ্গসজ্জা। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে কান্নায় ডুকরে উঠছেন দেবাশিসবাবুর স্ত্রী বেবি ঝা। সন্তানসম দেওরের স্মৃতির ভার তাঁকেও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

যাঁরা প্রতিমার বায়না করতে এসেছিলেন, তাঁদের এবার ফিরিয়ে দিয়েছেন শিল্পী। অর্ধসমাপ্ত পড়ে রয়েছে তাঁর সৃষ্টিও।

এই অর্ধসমাপ্ত কাজ আর কোনোদিনও পূরণ হবে কি না তা নিজেও জানেন না দেবাশিসবাবু। হয়তো স্মৃতি-কাতরতার ভিড়ে হারিয়েই যাবে জলপাইগুড়ির  ‘ছোটো দুর্গা’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here