কলকাতা: গ্রাম থেকে ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধ শহরে এসেছেন চিকিৎসা করাতে। তিনি নিজেও এক জন চিকিৎসক। বড়ো শহরে, বড়ো হাসপাতালে জায়গা না পাওয়ায় তাঁর আর্তনাদ, “ডাক্তারবাবু, আপনার এত বড়ো শহরে, এত বড়ো হাসপাতালে আমার একটু জায়গা হবে না? ডাক্তারবাবু, আমার চিকিৎসা হবে না?” — এমনই এক আর্তবাণী থেকে নিজস্ব হাসপাতাল গড়ার ইচ্ছেটুকুর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন চিকিৎসক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সরোজ গুপ্ত। উপরের লাইনটুকু নাটকের এবং নাটকের প্রয়োজনে তা আগে-পিছে হাঁটে। কিন্তু ঘটনাটি সত্যি। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে এমনই এক ঘটনায় কলম ধরেছিলেন সরোজবাবু। নাটক ‘কর্কটলগ্ন, মঞ্চস্থ হয়েছিল রবীন্দ্র সদনে, মার্চ মাসে। সেই নাটকের চিত্রনাট্য খুঁজে পাওয়ায় ৪৪ বছর পর তা আবার উপস্থাপন করা হল রবীন্দ্র সদন মঞ্চে। অভিনয় করলেন হাসপাতালের ১৮ জন কর্মী। প্রথম যে দিন মঞ্চস্থ হয়েছিল, সে দিন বৃদ্ধের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন বিশেষজ্ঞ সরোজ গুপ্ত। আর এ বার অভিনয় করলেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র স্থপতি এবং হাসপাতালের অনারারি সেক্রেটারি অঞ্জন গুপ্ত।

১৯৭৩। টিকিট বিক্রি করে উঠেছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা। হেমপ্রভা ঘোষ তাঁর পুত্রের নামে দান করেছিলেন ১০ হাজার টাকা। ছ’ একর জমি দিয়েছিলেন সরোজ গুপ্তের এক রোগী, চিন্তাহরণ দাস। প্রথমে ২৫টি বেডের একটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছিল। পরে আরও ছ’ একর জমি কেনা হয়েছিল। এ ভাবেই এগিয়ে গেল ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে একটি পা হারালেও নাচের নেশা ছাড়তে পারেনি মেয়েটি। সে হতে চায় সুধা চন্দ্রন। ক‍্যানসার আক্রান্ত সেই অঞ্জলি রায় ‘মোর বিনা ওঠে কোন সুরে বাজে’ আর ‘পিনাকেতে লাগে টঙ্কার’, এই দু’টি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। ক্যানসারে একটি হাত কাটা গেছে দেবরাজের। সেই দেবরাজ চট্টোপাধ‍্যায়ের আঁকা ছবি প্রদর্শন করা হয়। শেষ পর্যায়ে স্বাগতালক্ষ্মীর সংগীত পরিবেশন শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

চলতে ফিরতে সক্ষম এমন বেশ কয়েক জন রোগীকে দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠান। সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ৪৪তম বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিতা রায়, বিশেষ অতিথি সৌমিলি বিশ্বাস।  জোকার একটি সংস্থার ছেলেমেয়েরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।    

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here