স্মিতা দাস

কলকাতা :  ‘অন্তর্লীন’ – রবীন্দ্রসঙ্গীত আর আধুনিক কবিতার মেলবন্ধনে সিডির বাজারে এক নবতম সংযোজন। বর্তমানে অনৈতিক অনলাইন ডাউনলোডে সংকটজনক পরিস্থিতিতে গান কবিতার এমনকি সিনেমার বাজারও। সেই সময়কালে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে এটা একটা সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

বুধবার অভিনেতা, কবি তথা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, কবি শ্রাবণী বসু, বাচিকশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কিছু গুণীজনের উপস্থিতিতে মুক্তি পেল ‘অন্তর্লীন’-এর সিডি।

অনুষ্ঠানে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, কবিতা আজীবন বেঁচে থাকবেই। কবিতাই হল প্রাথমিক শিল্পসৃষ্টি। তাই কবিতার মৃত্যু নেই। ছোটো গল্পের প্রথম ধাপই হল কবিতা। কারণ একটা ১২ লাইনের কবিতার মধ্যে গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি তুলে ধরা যায়। যে কোনো লেখা গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধকে ছোটো করা যায়। কিন্তু কবিতাকে আর ছোটো করা যায় না। নতুন কবিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কবিতা কিন্তু দু’ রকমের হয়। এক শ্রবণের কবিতা আর দুই পাঠের কবিতা। এ কথা মাথায় রেখে কবিতা লেখাটা জরুরি। কবিতাকে বোধ্যগম্য হতে হবে। তা না হলে সেই সৃষ্টি ব্যর্থ।

এ দিন খবর অনলাইনের প্রশ্নের উত্তরে চিরঞ্জিত বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে তুলে ধরাটাই হল এক জন কবির দায়িত্ব। আগেকার সময়ে কবিরা যে ভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের ভাঙন ইত্যাদি নিয়ে লেখালিখি করতেন, সরব হতেন এখন আর সে ভাবে কেউ করেন না। ভয় পান। এখন আর তেমন ভাবে ঝুঁটি ধরে নাড়িয়ে দেওয়ার মত কাজ হয় না। এমন কাজ হওয়া দরকার। না হলে কবিতা লিখে লাভ নেই। তাঁদের হাত ধরেই সমাজ জেগে ওঠে।

‘অন্তর্লীন’ এই সিডিতে রয়েছে অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর রচিত কবিতা। রয়েছে কবি শ্রাবনী বসুর কবিতাও। কবিতাগুলি আবৃত্তি করেছেন তন্ময় দত্তগুপ্ত, সতীনাথ মুখোপাধ্যায় ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। গোটা বিষয় ভাবনা আর পরিকল্পনায় রয়েছেন তন্ময় দত্তগুপ্ত। সিডিতে রয়েছে তাঁর রচিত কবিতাও। সঙ্গে তাঁর কণ্ঠে আবৃত্তি।

আধুনিক কবিতার প্রেক্ষিত অনুযায়ীও যে রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক যে কথা বার বার প্রমান হয়ে গেছে এই সিডিতে। প্রত্যেক কবিতার সঙ্গে রয়েছে তার উপযুক্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতও। গানে রয়েছেন শিল্পী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বিশ্বনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুমিত্রা পাল। ‘অন্তর্লীন’-এর সঙ্গীত পরিচালনায় বিশ্বনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

1 মন্তব্য

  1. চিরঞ্জিত স্যারের সাথে আমি একমত তাই একটি লেখা দিলাম মন্তব্য বাক্সে।

    {ফেরিওয়ালা}
    (ডট.পেন)
    আজও রেলিং-র ওপর থেকে রাস্তা দেখি
    এখনও প্রতিদিন ফেরিওয়ালা আসে।

    পৃথিবীর রং ফুরোলেও ওদের ফুরোবে না
    পৃথিবীর খিদে নেই কিন্তু ওদের আছে।

    শুধু পৃথিবীর শেষেই ওরাও বিলীন
    থাকবে দুবেলা পাকস্থলী খাবার হীন।।

    ( আমি জানতে চাই এই ওয়েব সাইটে সাহিত্যের পাতা আছে কী?)
    ডট.পেন আমারই ছদ্মনাম
    ধন্যবাদ।খবর online এগিয়ে যাক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here