buddhadeb guha

নিজস্ব সংবাদদাতা: এই পৃথিবীর জঙ্গলমহলে তাঁর অনায়াস আনাগোনা। দিনের আলোকঝারিতে অরণ্য প্রকৃতিকে যেমন চষে ফিরেছেন তিনি, তেমনই আঁধার রাতের অববাহিকাতেও চরাচর ধরা দিয়েছে তাঁর কাছে। দেশ-কাল তুচ্ছ করে তাঁর মনের আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আদিম নিসর্গ। এহেন আরণ্যক লেখক বুদ্ধদেব গুহকে সামনাসামনি পাওয়া বড়ো কম কথা নয়। শনিবার দে’জ পাবলিশিং-এর উদ্যোগে এবং আইজেনস্টাইন সিনে ক্লাবের সহায়তায় তেমনই এক দুর্লভ সন্ধ্যা সুলভ হল পাঠকের কাছে। ‘গল্পে গানে বুদ্ধদেব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শহরের গোর্কি সদনে পাঠকদের সামনে অবিরাম হল লেখকের স্মৃতিচারণ।

অবশ্য পাঠকদের কোনো দিন-ই দূরে সরিয়ে রাখেননি তিনি। নিয়ম করে এখনও তাঁদের চিঠির উত্তর দেন লেখক। ৮১ বছর বয়সেও এই বিষয়ে তিনি ক্লান্তিহীন। তবুও এই সন্ধ্যা তাঁকে কাছে পাওয়াতেই অনন্য। কেন না, চিঠির পরিধিতে জীবনের জলছবির পুরোটা ধরা সম্ভব নয়। অন্য দিকে, প্রিয় লেখককে এমন করে কাছে পাওয়ার অবকাশ কি রোজ আসে? না কি গায়ক বুদ্ধদেব গুহকেই কি অক্ষরে পাওয়া সম্ভব? শনিবারের এই সন্ধ্যার বড় পাওনা লেখকের গানও!

buddhadeb guha
(বাঁ দিক থেকে: স্বপ্নময় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব গুহ, সুধাংশু শেখর দে এবং কল্যাণ মজুদার)

বাকি যা না-পাওয়া, তা এবার পূর্ণ হল ষোলোকলায়। দে’জ পাবলিশিং পাঠকের হাতে তুলে দিল লেখকের নতুন বই ‘জলতরঙ্গ’। যা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার আর স্মৃতিচারণায়। বাদ যায়নি প্রবন্ধ এবং চিঠির সম্ভারও। যা নেহাতই জীবনের ঝাঁকিদর্শন নয়। বরং অনেক বেশি করে তা চিনিয়ে দেয় তাঁর প্রসারকে। যার কথা অনেক মগ্ন পাঠকেরও অজানা।

“চলার পথে লক্ষ লক্ষ মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমার সবচেয়ে বড়ো পুরস্কার। মনে আছে একদিন রাতে এক ধাবায় গেছি। সেখানে আমায় দেখেই গাড়িচালকেরা উঠে এলেন। বললেন, ‘আমি আপনার মাধুকরী পড়েছি, কোজাগর পড়েছি।’ সাধারণ মানুষ যে আমার লেখা এত ভালোবাসেন, তাতেই আমি অভিভূত”, শনিবার সন্ধ্যায় অকপটে সে কথা স্বীকার করে নিলেন লেখক।

লেখকের এমন অনেক আন্তরিক স্মৃতিকথন ছাড়াও অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছিল দে’জ পাবলিশিং-এর কর্ণধার সুধাংশু শেখর দে-র উপস্থিতিতে। ১৯৭৩ সাল থেকেই লালাদার সঙ্গে তাঁর বিশেষ সখ্য। এই নামেই বুদ্ধদেব গুহকে সম্বোধন করেন অনুজ। তাঁর স্মৃতিচারণাতে নিঃসন্দেহে ঋদ্ধ হল সন্ধ্যাটি। পাশাপাশি লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তী এবং কল্যাণ মজুমদারের সঞ্চালনায় পূর্ণ হল পাওয়ার পাত্র।

হবে না-ই বা কেন! জীবনের জলতরঙ্গে বুদ্ধদেব গুহর মতন করে সুরযোজনা করতে আর কে-ই বা পারেন!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here