৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ নির্মলেন্দু চৌধুরীকে

0
4681
পায়েল সামন্ত

কোনো স্বরলিপি নেই, কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। তবুও লোকসংগীতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সাধারণ প্রান্তিক মানুষের ভালোবাসা, দুঃখ, বেদনা উঠে আসে লোকসংগীতে। ভাটিয়ালি থেকে ধামাইল, ধামাইল থেকে সারিগান, ভাওয়াইয়া সে সবেরই কথা বলে। আর বলে নির্মলেন্দু চৌধুরীর কথাও।

বৃহস্পতিবার ৯৫তম জন্মবার্ষিকীতে লোকগানের কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানানো হল ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট প্রেক্ষাগৃহে। থিয়েলাইট-এর উদ্যোগে আয়োজিত  স্মরণ অনুষ্ঠানে তাঁরই গানে মন ভরালেন অভিজিৎ আচার্য। তিনিই জানালেন, শিল্পীর নামে লোক অ্যাকাডেমি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধেয় একটানা গান শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল যেন রাঢ় বাংলা বা ওপার বাংলার কোনো নদীর পাড়েই বসে আছি। মাঝিমাল্লাদের উদাস করা ভাটিয়ালি সুরের সে সব গান নির্মলেন্দু পৌঁছে দিয়েছিলেন দেশ থেকে বিদেশের মাটিতে। শিল্পী অভিজিতের কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান খেলে ভালোই। তবু তিনি বারবার বিনীত ভাবে জানিয়েছেন, অনুকরণের চেষ্টা করছেন মাত্র!

লালন ফকিরের গান কিংবা গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কথা বা সলিল চৌধুরীর সুর— সবেতেই নির্মলেন্দু চৌধুরী নিখুঁত। লোকসংগীতের সুরে তিনি মিশিয়ে দিতেন দরদ আর আবেগ। ফলে সেই অনন্য দরদী গায়কী হয়ে উঠেছিল তাঁর নিজস্বতা। এটাই শিল্পীর সাফল্যের চাবিকাঠি। তাঁর ‘সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি’, ‘ভালো কইর‍্যা বাজাও গো দোতারা’, ‘নিম তিতা’র মতো গান আজকের তরুণ প্রজন্মকেও মাতিয়ে তোলে। অভিজিতের কথায়, “আজকের সবাই তো সোহাগ চাঁদ বদনি শুনছে। তবে তাদের নিজেদের মতো করে। এটাই তো নির্মলেন্দু চৌধুরীর সার্থকতা। বিদেশেও লোকগানের আসরে ১০টা গান গাইলে তাঁকে নির্মলেন্দুর চৌধুরীর ৬টা গান গাইতে হয়। শ্রোতারাই অনুরোধ করেন।”

তিনি আজও দুই বাংলায় সমাদৃত। ‘গঙ্গা’ ছবিতে সলিল চৌধুরীর সুরে ‘আমায় ডুবাইলি রে’, ‘সজনী ও সজনী’র মতো গানের পাশে উত্তরবঙ্গের চটুল পর্যায়ের ‘আগে করলাম বিয়া’ গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। ২৭-এর সন্ধ্যায় অভিজিতের কণ্ঠে সেই সুরশৈলী আরও একবার ছুঁয়ে দেখা গেল। নদীর গানে নির্মলেন্দু ছিলেন সহজ। তাই ভাটিয়ালি গানের সুরে তাঁর উদাত্ত স্বর খেলত নদীর বুকে বাতাসের মতো। অভিজিতের ঝোঁকও যেন সেই দিকে। একটু কম শুনতে পাওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটা অনবদ্য গান অভিজিৎ শ্রোতাদের উপহার দিলেন। আবার পাশাপাশি ‘কাজল ভ্রমরা’, ‘রুনুর ঝুনুর পায়’, ‘বন্ধু রে’ — এমন কালজয়ী গানও তিনি বাছাই করে রেখেছিলেন শ্রোতাদের জন্য।

আকাশবাণীর শিল্পী সুকৃতি লহরী এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার ফাঁকে মানুষ নির্মলেন্দুকে হাজির করছিলেন। তিনি খবর অনলাইনকে জানালেন, “পাড়ায় পাড়ায় একটা সময় গানের জলসা হত। সেখানে শুধু হারমোনিয়াম, তবলা নিয়ে হেমন্ত, মানবেন্দ্র, নির্মলেন্দুরা গান করতেন। সেই সময়টা এখন নেই। এখনকার কালচারের ধরন একটু অন্য রকম। তবে সময় এসেছে এ বার একটু ফিরে তাকানোর। সেই জন্যই এ রকম ফিরে দেখার অনুষ্ঠানের আয়োজন। অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি আমরা বাংলার রূপের সেই সুন্দর দৃশ্যায়নটা যেন দেখতে পেয়েছি।”

একই সুর শোনা গেল উপস্থিত শ্রোতাদের কন্ঠে। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা শংকর চক্রবর্তী ও চিত্রশিল্পী সমীর আইচ। নির্মলেন্দু লোকসঙ্গীতের সম্রাট। তাঁকে নিয়ে ফোক অ্যাকাডেমি করার কথা মঞ্চে বললেন তরুণ শিল্পী অভিজিৎ।  জানালেন, শতবার্ষিকীতে এই মহান শিল্পীর সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে একটি ফোক অ্যাকাডেমি করার চেষ্টা চলছে। তাঁরা এ ভাবেই এগিয়ে যেতে চান।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here