পাপিয়া মিত্র

ভাদ্রের আকাশে ঘনঘোর শ্রাবণের ছবি। মেঘভাঙা বৃষ্টির ধারা শ্রাবণকে হার মানায়। এমন ভাবে কেটেছে দিন দুই। তারই মাঝে কৃষ্টিচক্রের ১৭তম জন্মদিন পালন হল নিজস্ব চত্বরে।

চার দিকে জমা জলকে উপেক্ষা করে মঞ্চে তখন ‘দক্ষিন সৃজনী’ শ্রোতাদের নিয়ে গিয়েছেন ভাদুটুসুর দেশে। এ সবের আগে নিভা হাওলাদারের উদ্বোধনী সঙ্গীত ছিল ‘আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে’। নানা ধারার গানের পাশাপাশি ছিল আবৃত্তিও। ‘ভয়েস অফ ওয়ার্ল্ড’-র কিশোর-কিশোরীরাও জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয় করে উপস্থাপন করল রবি ঠাকুরের গান ও লোকসঙ্গীত। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন লিপিকা হালদার, রীণা মৈত্র-সহ অনেকে। ছিল নজরুলগীতি, দ্বিজেন্দ্রগীতি, আগমনী গানও – ‘শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে ভোরের আগমনী’।

‘কৃষ্টিচক্র’-এর শুভ জন্মদিনে কেক কাটলেন কর্ণধার প্রদীপ দত্ত। সহযোগিতা করলেন লিপিকা হালদার ও চন্দ্রিমা চট্টোপাধ্যায়।

স্থানীয় মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘কৃষ্টিচক্র’ এমন একটি সংস্থা যেখানে অঙ্কন-বাদ্য-নাটক-নৃত্য ও সঙ্গীত শেখানো হয়। অনেকেই নিজের প্রতিভা প্রকাশ করার সুযোগ পায় না। তাঁদের জন্যই মূলত এই মঞ্চ। ‘কৃষ্টিচক্র’ ছোটোদের নিয়ে ‘কৃষ্টিমেলা’ ও বড়োদের নিয়ে ‘কৃষ্টিধারা’ চালু করেছে। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনটি শাখা ও ‘ভয়েস অফ ওয়ার্ল্ড’-র নিবেদন ছিল। সদস্য ছাড়াও ছিলেন আমন্ত্রনী শিল্পী। ছিল ‘বিহঙ্গম’ ও ‘নবারুণ’ গোষ্ঠীর সঙ্গীত পরিবেশন।

সারা বছরে পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি ও বসন্তোৎসব আয়োজন করার পাশাপাশি ‘পঞ্চ কবির গান’, ‘মাটির গান’, ‘আধুনিক বাংলা গানের সূচনাকাল’, ‘ও আমার জন্মভূমি’-সহ বেশ কয়েকটি উপহার ‘কৃষ্টিধারা’ দিয়েছে বেহালা ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে। ‘কৃষ্টিমেলা’র কাজও চলেছে, কিন্তু একা কোনো কিছু চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের আজ বড়ো প্রয়োজন।

নানা উন্নয়নমূলক কাজ করার ইচ্ছেশক্তি থাকলেও স্বেচ্ছাসেবী মানুষ যদি পাশে থাকেন তা হলে কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। যেমন একার পক্ষে দেখা সম্ভব হয়নি ‘কৃষ্টিবার্তা’ পত্রিকাও — জানালেন সংস্থার ধারক ও বাহক প্রদীপ দত্ত। আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া অনেক প্রতিভা শুধু হারিয়ে যায় প্রকাশ করার মাধ্যম না পেয়ে।

এই ‘কৃষ্টিচক্র’ এমন একটি চর্চাকেন্দ্র যেখানে মাত্র দশ টাকায় সদস্য হওয়া যায়। নানা ধারার প্রশিক্ষণ এখানে দেওয়া হয়। কিন্তু এই এক একটা অনুষ্ঠান নামাতে তার যে ব্যয়ভার তা কি প্রদীপবাবু নিজেই বহন করেন? বার্ষিক পাঁচশো টাকার অনুদান ব্যবস্থা আছে কিন্তু এটা যার যা খুশি। বাকিটা ‘একলা চলো রে’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here