gauri dasgupta, daughter of indramitra
কবির কথা শোনাচ্ছেন মেয়ে গৌরী।
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

রসবোধ আর অঙ্কচর্চা, কবিতার সঙ্গে জ্যোতিষচর্চা, আপাতগম্ভীর এক অতি সাধারণ মানুষের বেশে এক সুগভীর গবেষক। বিদ্যাসাগরমশাইকে নিয়ে আলোচনা আর ছোটোদের ঘিরে নানা গল্পে নিজেকে সময়ের উপযোগী করে রাখা এমন এক বিরল মানুষের ঠিকানা বেহালা সরশুনা। যে ঠিকানা খুঁজে পেতে মনে হয় এখনও কাউকে কাউকে হোঁচট খেতে হবে। সেই ঠিকানার মালিক কবি অরবিন্দ গুহ।

সেই ঠিকানার মালিক কবি অরবিন্দ গুহ তথা ইন্দ্রমিত্রের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হল কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের বই-চিত্র গ্যালারিতে। নানা কথার জাল ছড়িয়ে গিয়েছে ক্রমশ। কথা শুরুর প্রথমেই ঐতিহাসিক ঘরটিতে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া যে সকলেই এসেছেন তা স্মরণ করান আশিস লাহিড়ি। জানান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও এসেছিলেন এই ঘরে। এমন এক দিনে আলোচনাসভা চলছে শতরঞ্জিতে বসে। হিমানীশদা ও অরবিন্দবাবুও আছেন। মজার ব্যাপার ছিল বিতর্কে জড়িয়ে দিলে অরবিন্দবাবুকে, গম্ভীরমুখে যা বলতেন সেই গল্প ও তার রসবোধ যিনি না আস্বাদন করতে পেরেছেন তিনি অরবিন্দবাবুকে চিনতে পারেননি। জীবনযাত্রা ছিল সাধারণ অথচ পাণ্ডিত্যের আভিজাত্যে তা হয়ে উঠেছিল একঘর রোদ। যেখানেই উপস্থিত থাকতেন সেখানেই গভীর তত্ত্বের সঙ্গে এসে পড়ত রসিকতা। ফাজলামি না করলে সিরিয়াস কাজ করা যায় না, এমন বোধ মনে মনে বিশ্বাস করতেন।

dr. sudatshan chakroborty.
ইন্দ্রমিত্রের কথা বলছেন ডাঃ সুদর্শন চক্রবর্তী।

স্মরণসভায় উঠে এল জীবনানন্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অরবিন্দ গুহের সিনেচার কবিতার কথা। এক দিকে ‘বনলতা সেন’, ‘সোনার তরী’, তেমনই ‘পৌত্তলিক’-এর কথা। কবিতাটি পাঠ করে শোনান রাহুল সেন, ‘ভালবেসেছিলাম এক স্বৈরীনিকে, খরচ করে চোদ্দ সিকে’। ‘সাজঘর’, ‘করুণাসাগর বিদ্যাসাগর’, ‘দক্ষিণনায়ক’ ‘দেখাসাক্ষাত’ বইয়ের প্রসঙ্গ এসেছে কথায় কথায়। উঠে এসেছে নাটকের কথা। জাতীয় গ্রন্থাগারের নানা গল্পে জমিয়ে তুলেছিলেন অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আমার বাবা’ প্রসঙ্গে বললেন কন্যা গৌরী দাশগুপ্ত। অরবিন্দ গুহ তাঁর বাবাকে নিয়ে লিখেছিলেন ৮৬ বছর বয়সে। তা-ও পাঠ হল। বাবাকে অল্প দিনই পেয়েছিলেন, তার কারণ বরিশাল ত্যাগের কষ্ট। কবি কালীকৃষ্ণ গুহ যে একদিন অরবিন্দদাকে প্রশ্ন করেছিলেন, জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু দুর্ঘটনা না আত্মহত্যা, সে প্রসঙ্গও সভায় উঠে এল। এবং স্বভাবসিদ্ধ যে উত্তর তিনি দিয়েছিলেন সে কথাও জানা গেল। কবি-প্রাবন্ধিক-গবেষক অরবিন্দ গুহ, ইন্দ্রমিত্রকে নিয়ে সীমিত শব্দে লেখা সম্ভব নয়। স্মরণসভাতেও তাঁর স্মিতমুখের উপলব্ধি ছিল সকলের মনে।

poet sankha ghosh
কবি শঙ্খ ঘোষের শ্রদ্ধার্ঘ্য।

কবির ছবিতে পুষ্পমাল্য দেন কবি শঙ্খ ঘোষ, প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায়, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় ও আরও অনেকে। রবিঠাকুরের গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘হে মহাজীবন’ গাইলেন ঈশিতা মুখোপাধ্যায়। গান শোনানোর আবদার রেখেছিলেন কবির ঘনিষ্টরা কবিকন্যার কাছে। ‘গভীর রজনী নামিল হৃদয়ে’ গানটিতে হারমোনিয়ামে সঙ্গত করেন ‘সুরঙ্গমা’র ঊর্মিলা ঘোষ। ‘কারুকথা’র উদ্যোগে এই স্মরণসভার আয়োজন। সহযোগিতায় ছিল ‘বই-চিত্র’। সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন কবিপ্রিয় চিকিৎসক সুদর্শন চক্রবর্তী। ছিলেন পরিবারস্বজনও।

ছবি: লেখক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here