পায়েল সামন্ত

‘সার্জ টুকে সেভেনটিন’। বহু প্রতীক্ষিত ১৪ সেপ্টেম্বর আসতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল ইন্টার কলেজ ফেস্ট। আয়োজনে জোকার ইএসআইসি মেডিকেল কলেজ।

এমনিতে কলেজের ফেস্ট মানেই উদ্ধত যৌবন আর লাগামছাড়া আনন্দের প্রতিশ্রুতি। এই ফেস্টেই তো পড়াশুনোর পাঠ চুকিয়ে সহপাঠীদের অন্যভাবে খুঁজে পাওয়া যায়। সেই থিয়োরিতেই খাওয়াদাওয়া-জমজমাট আড্ডার পাশাপাশি ডাক্তারি পড়ুয়াদের ফেস্টে দিনভর চলল নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানমূলক কর্মসূচি। প্যানেল ডিসকাশন-এর পরেই শুরু হল বেসিক লাইফ সার্পোট সংক্রান্ত কর্মশালা। অ্যাপোলো হসপিটালের উদ্যোগে ভবিষ্যতের ডাক্তারদের জন্য এই কর্মশালায় ছিল আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে মানুষকে সাহায্য করে প্রাণ বাঁচানো যায়, তা নিয়ে নিবিড় চর্চা। শুধু ডাক্তারি পড়ুয়া কেন, ছাপোষা মানুষেরও তা খুব কাজে লাগার মতোই। এই কর্মশালায় উপস্থিত ডাক্তার পবন কুমার বললেন, “এই ব্যাপারটা খুবই কাজের। মুমূর্ষু রোগীকে কখন অ্যাম্বুলেন্স বা ডাক্তার আসবে, সেই ভরসায় না রেখে স্রেফ প্রথা মাফিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট দিতে পারলেই প্রাণে বাঁচানো যেতে পারে। তাই এই কর্মশালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”। কলেজের সংস্কৃতি সচিব অর্ণব পাল খবর অনলাইনকে জানালেন, “বিদেশে সাধারণ নাগরিক মাত্রেই বেসিক লাইফ সার্পোটের বিষয়টি জানেন। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাপারটা নিয়ে চর্চা করা হয় না। তাই আমাদের ফেস্টে বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিছুটা অন্য ধরণের অনুষ্ঠান করার থেকেই এই তাগিদ বলতে পারেন”।

চলছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে ক্যুইজ

বিকেলের দিকে ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে ক্যুইজ। দিনভর ক্লাসরুমের নানা বিষয়কে অন্যভাবে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা যেমন ছিল এই ক্যুইজে। তারপর ছিল মস্তি আর হুল্লোড়ের নিশির ডাক। হ্যাঁ, এই জেন ওয়াই প্রজন্মের পছন্দ অনুযায়ী ডাক্তারি মঞ্চ কাঁপাতে হাজির ছিলেন বলিউডের প্লেব্যাক সিঙ্গার অদিতি সিং শর্মা। তাঁর পরিচয় আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বলিউডে অনুরাগ কাশ্যপের ‘দেব ডি’র হাত ধরেই তাঁর প্রবেশ। পরবর্তীতে ‘ধূম থ্রি’, ‘রয়’, ‘টু স্টেটস’, ‘এজেন্ট বিনোদ’ ইত্যাদি বহু ছবিতে তিনি গান গেয়েছেন। ‘আজহার’ খ্যাত অদিতি মঞ্চ কাঁপালেন তাঁর সমস্ত হিট গান দিয়েই। ঘন্টা দেড়েকের এই অনুষ্ঠানে বাদ যায়নি ‘সূরয ডুবা’ বা ‘তু যো মিলা’র মতো গানগুলি।

গান গাইছেন অদিতি সিং শর্মা

সত্যিই, সূর্য ডুবতেই জোকার ইএসআই ক্যাম্পাসে অন্য চাঁদই যেন নেমে এল। শারীরবিদ্যার বাইরে রাতের মায়ায় ডাক্তারি ক্যাম্পাসের বাইরে জোকার অ্যারিষ্ট্রো ক্লাবে ছাত্ররা মেতে উঠল সুর আর হল্লোড়ের তালে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন