balarko organised pather panchali

ওয়েবডেস্ক: উৎসবের আলোয় ঝলমল করছে মহানগর। এটা একটা কলকাতা। আরেকটা কলকাতা নিভে যাওয়া আঁচে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে রোজ রোজ। ঝাঁ চকচকে ফ্লাই-ওভারের তলায় অথবা স্যাঁতস্যাঁতে বস্তির ঘুপচিতে। এই লড়াকু মানুষগুলোকে নিয়ে খুশির উৎসবে সামিল হলে কেমন হতো? কেমন হয় ওদের ঘরের খুদেগুলোর সঙ্গে একটা রঙিন দিন ভাগ করে নিলে? এই ভাবনা থেকেই ‘বালার্ক থিয়েটার গ্রুপ’-এর প্রয়াস ‘পথের পাঁচালী’। স্বপ্নটা সত্যি হয়েছিল গতবছর বর্ষশেষের রাতেই। সেখান থেকেই আবার পথ চলা, আবার স্বপ্ন দেখা। বছরের শেষ দিনে রানু ছায়া মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘পথের পাঁচালী ২০১৭’।

পথনাটক, মিউজিকাল থিয়েটার, গল্প পাঠের আসর, মূকাভিনয় নিয়ে গতবছরের মতোই এবারেও জমে উঠবে ‘পথের পাঁচালী’।  অনুষ্ঠানের আয়োজক ‘বালার্ক’-এর পথ চলা শুরু ২০১২ সালে। দীপাবলিতে যাঁদের ঘরে একটাও প্রদীপ জ্বলে না, বড়োদিনে কেকের গুড়ো পড়ে না যাঁদের ঠোঁটে, তাঁদের প্রতি সমাজের একটা দায়বদ্ধতা আছে, এমনটাই বিশ্বাস বালার্কর সদস্যদের। তাই নাচ, গান, ছবি আঁকা, গল্প বলার পাশাপাশি নিজেদের যতসামান্য আর্থিক সামর্থ থাকলেও( অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ) ফুলের মত শিশুগুলোর হাতে ওরা তুলে দেয় বই খাতা, জামা কাপড়। থিয়েটার নিয়ে এবং থিয়েটারে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে সম্মান জানানোর জন্যেও বালার্ক বেছে নিয়েছে ‘পথের পাঁচালী’কেই। থিয়েটার নামের পথ চলা যাদের ফুরোয়ে না কোনোদিন, তাদের পাশে থাকতে পারাটাই ওদের আনন্দ। ২০১৬য় সম্মানিত করা হয়েছিল নাট্যকর্মী শুভাশিস খামারুকে।  বালার্কর সম্পাদক নীলাঞ্জন হাজরার কথায় ”পথের ধারে মাটির কাছাকাছি থাকা শিশুদের জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ”। পথ চলতে চলতে পথের পাশে ছড়িয়ে থাকা ফুলগুলোকে একটু আনন্দ দিক ‘পথের পাঁচালী’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here