ভালোবাসার স্বার্থে লিঙ্গ বদলিয়ে এত দিনে জয়ী হলেন সিআইএসএফ জওয়ান, পেলেন পুরুষ স্বীকৃতি

0
938

নয়াদিল্লি: দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে জয় এল। আর এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পিছনে অনুপ্রেরণা ছিল তাঁর ভালোবাসা।

কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ)কনস্টেবল তিনি। বিহারের ওই মানুষটি ২০০৮ সালে মহিলা কনস্টেবল হিসাবে বাহিনীতে যোগ দেন। মহিলা কর্মী হিসাবে যোগ দিলেও তাঁর আচার-আচরণ সবই ছিল পুরুষালি। তিনি নিজেই বলেছেন, “আমি ছোটোবেলা নিজেকে ছেলে বলে ভাবতাম। তাই ঠিক করেছিলাম কখনও বিয়ে করব না। কারণ তা হলে তো এক জন পুরুষমানুষকে বিয়ে করতে হয়। শেষ পর্যন্ত সিআইএসএফ-এ চাকরি পেয়ে গেলাম। ঠিক করলাম আর বাড়ি ফিরব না। কারণ ফিরলেই তো বিয়ে করার জন্য চাপ আসবে।”

তিনি বলেন, “দিল্লি মেট্রোয় আমার কাজ পড়ল মহিলা যাত্রীদের পরীক্ষা করা। কাজটা করতে অস্বস্তি হত। সিনিয়রদের বললাম, এই কাজটা করতে অস্বস্তি হয়, কারণ আমি নিজেকে ছেলে বলে মনে করি।” তাঁর মহিলা সহকর্মীরাও তাঁকে নারী বলে মনে করত না। তাই তাঁর মেয়েদের ব্যারাকে থাকাতেও তাঁদের আপত্তি ছিল।

কাজ করতে করতেই তিনি এক মহিলা সহকর্মীকে ভালোবাসতে শুরু করেন। তাঁরা বিয়ে করবেন বলে মনস্থও করেন। কিন্তু এ বিয়ে তো আইনি স্বীকৃতি পাবে না। কারণ সমকামী বিয়ে এখনও ভারতে স্বীকৃত নয়। শুধু তা-ই নয়, ব্রিটিশ আমলের সেই আইন অনুসারে এ ধরনের বিয়ে অপরাধ। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার স্বার্থে অস্ত্রোপচার করে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। শুরু হল লড়াইয়ের প্রথম ধাপ। বিপুল খরচের ধাক্কা, তার ওপর সহকর্মীদের নানা রকম ঠাট্টা-ইয়ার্কি, যা এক এক সময় সহ্য সীমার বাইরে চলে যেত।

নানা মেডিক্যাল পরীক্ষানিরীক্ষা, বেদনাদায়ক হরমোন ইঞ্জেকশন। তার ওপর অস্ত্রোপচারের টাকা জোগাড়ের চিন্তা। শেষ পর্যন্ত ১০ লক্ষ টাকা ধার করলেন তিনি। ২০১২-এর মে মাসে অস্ত্রোপচার হল। অস্ত্রোপচারের পরে শুরু হল পরের ধাপের লড়াই। তিনি তাঁর লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য বাহিনীতে আবেদন করলেন। বাহিনী এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই তিনি বিয়েও করলেন। সহকর্মীদের টিটকিরি আরও বাড়ল। তারা তাঁকে তাঁর আগের নামেই ডাকতে লাগল। জীবনসংগ্রাম আরও কঠিন হল।

দীর্ঘ চার বছর লড়াই চালানোর পর সিআইএসএফ অবশেষে তাঁকে পুরুষ কর্মী হিসাবে মেনে নিয়েছে। মাঝের এই চার বছরে তাঁকে নিয়ে চলেছে নানা পরীক্ষা – নানা ধরনের মেডিক্যাল টেস্ট, জেন্ডার টেস্ট, ফিটনেস টেস্ট। সব পরীক্ষায় তিনি সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর আবেদনের ফাইল নিয়ে আমলাতান্ত্রিক টানাপড়েন তো আছেই। শেষ পর্যন্ত গত ফেব্রুয়ারিতে সিআইএসএফ, সিআরপিএফ এবং এইমস-এর তিনটি মেডিক্যাল বোর্ড তাঁকে পুরুষ বলে মেনে নিয়েছে।

সিআইএসএফ-এর ডিজি ও পি সিং জানান, “আমাদের বসানো মেডিক্যাল বোর্ডগুলো ওই কনস্টেবলকে পুরুষ হিসাবে ঘোষণা করার পর আমরা গোটা ব্যাপারটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানিয়েছি। চার বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে ছিল। আমরা এখন একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। আমাদের রেকর্ডে উনি একজন পুরুষ কনস্টেবল।”

“একই লিঙ্গের প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করা যদি আমাদের দেশে বৈধ হত, তা হলে হয়তো আমাকে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে হত না। আমি জানি, সমাজ এ ব্যাপারে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে, কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত” – নাম গোপন রাখার শর্তে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে এ কথা বলেন ওই লড়াকু কনস্টেবল।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here