Joyita Mondal Mahi

ওয়েব ডেস্ক : জীবনটা যে এই ভাবে বদলে যাবে কিছুদিন আগেও তিনি ভাবতে পারতেন না। তবে গত তিন মাসে বদলে গেছে দেশের প্রথম রূপান্তরকামী বিচারক জয়িতা মণ্ডল মাহি জীবন। হিসাবের খাতায় আয়কে ছাপিয়ে বেড়েছে সম্মান।

গত ৮ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরের ইসলামপুরে লোক আদালতের বিচারক হিসাবে যোগদান করেন তিনি। হিন্দুস্থান টাইমসকে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,‘‘ আমি সত্যিই খুশি। সমাজে আমার সম্মান বেড়েছে। যে সম্মানের খোঁজ করছিলাম আমি।’’

এই পেশা আসার আগে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিজরা হিসাবে গিয়ে অর্থ রোজগার করতেন। আয় ভালো হলেও জুটত অসম্মান, টিটকিরি। কেমন যেন অচ্ছুতের মতো দেখতো সবাই। তবে এখন তাঁর বিচারের জন্য এসে মানুষ ‘স্যার’ ‘ম্যাডাম’ করে।

জয়িতার মতো অনেকেই এখন সামাজিক বাধা এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে সামানে এগিয়ে আসছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে। ২০১৪ সালের পর থেকে এই পরিবর্তনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই বছর রূপান্তরকামীদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট এবং সরকারকে নির্দেশ দেয় শিক্ষা এবং চাকরিতে তাদের জন্য সংরক্ষণের। যদি সংসদে রূপান্তরকামী অধিকার বিল এখনও আটকে রয়েছে।

আরও পড়ুন : দেশের প্রথম রূপান্তরকামী পুলিশ অফিসারের সঙ্গে পরিচয় করুন 

ইতিমধ্যে ব্যাঙ্ক ঋণ এবং বাড়িওয়ালা ভাড়াটে বিবাদ সংক্রান্ত চারটি মামলার নিস্পত্তি করেছেন জয়িতা। সাধারণত লোক আদালত তিনজন বিচারকের বেঞ্চ। জায়িতা জানিয়েছেন, ‘‘তিনজন বিচারক আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করেন এবং তাঁরা সম্মানের সঙ্গে আমাকে দেখেন।’’

তবুও কিছু ‘তবু’ থেকে যায়। কারণ রূপান্তরকামীদের প্রতি মনোভাবের আগাপাশতলা বদল হতে এখনও সময় লাগবে। ‘‘কিছু চোখের দৃষ্টি, শরীরের ভাষা মাঝে মাঝে কেমন অদ্ভুত ঠেকে। তবে এদের কেউ আমাকে কোনোদিন আপমানকর কোনো মন্তব্য করেনি,’’ জানিয়েছেন জয়িতা। তিনিও জানেন এই সমাজ ভাবনার পরিবর্তন হতে এখনও অনেক সময় লাগবে।

এই পেশায় এসে আয় কমেছে। তবে বেড়েছে সম্মান, যেটা জয়িতার কাছে সবচেয়ে বেশি কাম্য ছিল।

ছবি : ফেসবুক

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here