ওয়েবডেস্ক: পথ দেখিয়েছিল পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তৈরি হয়েছে রূপান্তরকামীদের আলাদা শৌচাগার। এ বার সেই পথে হাঁটল কাঁচরাপাড়া কলেজ। এ রাজ্যে এমন উদ্যোগ এই প্রথম। মূলত নদিয়া রানাঘাট সম্প্রীতি সমিতি এবং কলেজের রূপান্তরকামী পড়ুয়াদের উদ্যোগেই কাজ শুরু হয়েছিল। দিন দশেক আগে উদ্বোধন করা হল শৌচাগারের।

যৌন পরিচয় সমাজে তাঁদের প্রান্তিক করে রেখেছে এখনও। সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য চলছে লড়াই। এর মাঝে দু’ একটা অন্য রকম ব্যতিক্রমী খবর কানে আসে। কাচরাপাড়া কলেজের খবরটা সেরকমই কিছু। খবরে প্রায় আসে না বললেই চলে। অথচ নিঃশব্দে কেমন একটা বিপ্লব ঘটে গেল কলেজটায়। পুরুষ এবং মহিলা শৌচাগারের মাঝে দাঁড়িয়ে সেই বিপ্লব। ওপরে ছাপার অক্ষরে লেখা ‘টয়লেট ফর ট্রান্সজেন্ডার’।

রূপান্তরকামী পড়ুয়াদের কলেজে এসেই শুনতে হত নানা টিটকিরি। মেয়েদের শৌচাগারে গেলে হাসাহাসি করত বান্ধবীরা। ছেলেদের শৌচাগারে গেলেও তাঁদের নিয়ে চলত ঠাট্টা। তা ছাড়া মহিলা কিংবা পুরুষদের শৌচাগার ব্যবহার করা তাঁদের নিজেদের কাছেও ছিল অস্বস্তিদায়ক। ক্লাস শেষে বাড়ি ছোটাই তখন ছিল একমাত্র উপায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পড়াশোনায় মন সংযোগ নষ্ট হত। রূপান্তরকামী পড়ুয়ারা নিজেরাই সে কথা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে। বৈষম্যের শিকার তাঁরা হয়েছিল স্কুলজীবন থেকেই, সে কথাও তাঁদের আলোচনা থেকে স্পষ্ট।

কাঁচরাপাড়া কলেজের পথে নিশ্চয়ই খুব শিগগির হাঁটবে রাজ্যের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার অধিকার যেমন সবার, শিক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার অধিকার সবার। যৌন পরিচয় যেন সেখানে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। পথ এখনও বন্ধুর। লড়াইয়ের অনেকটা এখনও জেতা বাকি। তবু কোনঠাসা হতে থাকা একগুচ্ছ পরিচয় যখনই  স্বীকৃতি পায়, মানবতার জয় হয়। সেই জয়ের ইতিহাসে লেখা থাকল কাঁচরাপাড়া কলেজের নাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here