মধুর ভান্ডারকর। জাতীয় পুরস্কার তাঁর বাড়িতে থরে থরে সাজানো। তাঁর নতুন ছবি ‘ইন্দু সরকার’-কে ১৪টি কাট দিয়েছে পহেলাজ নিহালনির সেন্সর বোর্ড। সে সব নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন রাকা রায়ের সঙ্গে। 

আরও পড়ুন: ফিল্ম রিভিউ: জগ্গা জাসুস            

প্রশ্ন: আপনি আপনার ছবির নাম দিয়েছেন ইন্দু সরকার। নামটা খুব ট্রিকি না?

উত্তর: ট্রিকি করে নাম দেবার কিছু নেই, এটা একটা মেয়ের লড়াইয়ের কাহিনি। ট্রেলার দেখে জাজ করাটা ঠিক নয়। এই ছবিটার ব্যাকড্রপ হিসেবে সত্তরেরর দশকের রাজনৈতিক অবস্থাকে দেখানো হয়েছে। এটা সত্যি হয়েছিল। এই প্রজন্মকে জানাতে চেয়েছি। পুরো গল্পটা জানতে সিনেমাটা দেখতে হবে। এখানে কীর্তির চরিত্রের নাম ইন্দু সরকার।

প্রশ্ন: আপনি ৫ কি ৬ বছর আগে হলে কি এই ছবিটা এতো সহজে করতে পারতেন?

উত্তর: আবার ট্রিকি প্রশ্ন। সোজাসুজি বলুন না আমি বিজেপির কাছের লোক তাই এই ছবি করেছি। সত্যি নয় কিন্তু। আমার ছবিতে ১৪টা কাট করতে বলেছে সেন্সর বোর্ড।

প্রশ্ন: আপনি কি এটা মেনে নেবেন?

উত্তর: না। একদমই না। আমি দরকার হলে কোর্টে যাবো। আরে বাবা ছবির ট্রেলারে যে কথা দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে সবাই। সেগুলো কেটে লাভ কি বুঝতে পারছিনা।

প্রশ্ন: আপনার ছবির সব নায়িকারাই প্রায় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কীর্তিও নিশ্চয়ই আশা করছেন।

উত্তর: সেটা কীর্তিই বলতে পারবেন। তবে সব নায়িকারাই পেয়েছে এমন নয়। করিনা কাপুরই তো পায়নি। যদিও খুব ভালো করেছিল চামেলিতে। আমি ভেবেছিলাম ও পুরস্কার পাবে। সি ডিসার্ভড দ্যাট।

প্রশ্ন: আপনার সিনেমা দেখে বোঝা যায় আপনার রিসার্চ ওয়ার্ক দারুণ।

উত্তর: ওটা না করলে সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। এই ছবিতেও দেখবেন সত্তর দশককে তুল ধরতে যা যা করার করেছি। টাইপ রাইটার, কালো ফোন, ক্যামেরা সব আছে। আমি পিরিয়ড ফিল্ম করতে চাইনি। কিন্তু এই ছবিতে একটা দশককে ধরতে পেরেছি।

প্রশ্ন: এই ছবিটা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা অভিযোগ তুলেছে অনেকে।

উত্তর: (থামিয়ে দিয়ে) এটা আমিও জানতাম না। তবে আমি আবারও বলব ছবিটা দেখে তারপর অভিযোগ করুন। 

প্রশ্ন: এটা কি বায়োপিক?

উত্তর: একদম নয়। কিছুটা সত্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থাটা। বাকি গল্পটা ফিকশন। এখানে একজন ব্যুরোক্র্যাট ও তাঁর স্ত্রীর জার্নি। একটি মেয়ের লড়াইয়ের গল্প।

প্রশ্ন: কীর্তিকে ইন্দুর চরিত্রে নেওয়ার কোনো বিশেষ কারণ?

উত্তর: আমার মনে হয়েছে এটা ওকে মানাবে।

প্রশ্ন: বাঙালি কেন চরিত্রটা ?

কারণ বাংলার সঙ্গে নকশাল মুভমেন্টের দারুণ যোগাযোগ আছে। টোটা রায়চৌধুরীকেও তাই নিয়েছি। একজন সরকারি আমলার ভূমিকায় টোটাকে মানাচ্ছে।

প্রশ্ন: তাহলে আমারা একটা রাজনৈতিক ছবি দেখতে চলেছি?

উত্তর: আবার বলছি এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক ছবি নয়। ২৮ জুলাই ছবিটা দেখলেই সবাই বুঝতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here