কলকাতার পাঁচ তারা হোটেলে তখন আলোচনার বিষয়বস্তু সুভাষচন্দ্র বসু। বালাজির নতুন ওয়েব সিরিজে আসতে চলেছে ‘বোস। ডেড অর অ্যালাইভ’। সেখানেই রাজকুমার রাও-এর সঙ্গে আড্ডা জমল রাকা রায়ের

প্রশ্ন: আপনি একেবারেই সুভাষচন্দ্র বসুর মত দেখতে নন। চরিত্রটা যখন এলো কী ভেবে  রাজি হলেন?

উত্তর: আমিও একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু অভিনেতা হিসাবে আমি লাকি। কম সময়ে অনেক চরিত্র করার সুযোগ পেলাম। আমি ওর লুকে ফিট করতে অনেক সময় দিয়েছি। সময়ও ছিল। রাজি হয়ে গেলাম।

প্রশ্ন:  কী কী করেছেন?

উত্তর: আমি ওজন বাড়ানোর জন্য প্রচুর রসগোল্লা খেয়েছি। আমি মিষ্টি খেতে ভালবাসি। মাথায় টাক করার জন্য হেয়ার লাইন কেটেছি। বাঙলা ভাষা শিখতে সাহায্য করেছে আমার বান্ধবী পত্রলেখা(হাসি)। থ্যাঙ্কস টু  পত্রলেখা। (পত্রলেখা পাশেই ছিলেন)।

প্রশ্ন: ছোটোবেলায় যখন সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে পড়তেন। কী মনে হতো?

উত্তর: আমি যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলের গেটে সুভাষবাবুর একটা স্ট্যাচু ছিল। ১২বছর ধরে ওটা দেখেছি। ওখানে লেখা ছিল, আপ মুঝে খুন দে ম্যায় তুমে আজাদি দুঙ্গা। ওই কথায় সবাই অনুপ্রাণিত হয়। আমি এই সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি ।

প্রশ্ন: কতটা জানতে হল বোসের চরিত্র করতে গিয়ে?

উত্তর: অনেক কিছুই আমরা জানিনা। জানি না কারণ অনেক কিছু নেই ইতিহাস বইতে। আমি কলকাতার ওর বাড়ি গেছি। বোসবাবু যেখানে বড় হয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে অনুভব করতে চেষ্টা করেছি। গাড়িটা দেখেছি।

প্রশ্ন: মানসিক প্রস্তুতি কেমন ছিল?

উত্তর:  আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম আমি বোস। পরাধীন। ইংরেজদের তাড়িয়ে ছাড়বো।

রাজকুমার রাও ও বাঙালি বান্ধবী পত্রলেখা

প্রশ্ন: কোথাও কি ভয় করছে? সমালোচনার ভয়? বায়োগ্রাফি বলে কথা।

উত্তর:  না। ভয় করে কাজ হয়না। তবে খুব সাবধানী আমরা। এবার দর্শক বলবে। ভয় নিয়ে অভিনয় হয়না।

প্রশ্ন: আপনার নিউটন নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল বাংলায়। বোস নিয়ে যদি হয়?

উত্তর:  সেরকম হওয়ার কোনো কারণ নেই।

প্রশ্ন: আচ্ছা এটা সিনেমা না হয়ে ওয়েব হল কেন?

উত্তর: ওয়েব-এ দর্শক বেশি। নতুন প্রজন্মকে টানতে হলে নেতাজি সম্পর্কে জানতে হলে বেশ ভালো মাধ্যম।

প্রশ্ন: আপনি তো শুনলাম ১৬ বছরের কোনো চরিত্র করার কথা ভাবছেন।

উত্তর: হুম। হনসল মোহতা বলেছেন। গল্প ভালো হলে ৩০০ বছরও করেছি(হাসি)।

প্রশ্ন: নেতাজি সম্পর্কে নতুন কিছু কী দর্শক জানবেন?

উত্তর: অবশ্যই জানবেন। অনেক নাজানা দিক দেখা যাবে। অবশ্যই দেখা উচিত। আমারা যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তা কাদের জন্য, সেটা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানা উচিত। নেতাজি নিয়ে এর আগে কখনো এমন কাজ হয়নি এটা বলতে পারি। আমি অনেক কিছু জানলাম, সেটাই তুলে ধরেছি। প্লিজ দেখুন। নিজের দেশের কথা জানুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here