অনেকটা সময়ের ব্যবধানে আবার বড়ো পর্দায় ফিরছেন রঞ্জিত মল্লিক। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই হানিমুন ছবির পোস্টার দেখা যাচ্ছে।তাঁর এই কামব্যাক নিয়ে নানা কথা বললেন রঞ্জিত মল্লিক। শুনলেন রাকা রায়

প্র‌শ্ন: আপনার ফ্যানেরা তো বেজায় খুশি । এতোদিন কেনো আপনাকে দেখা যাইনি?

উত্তর:এবার থেকে দেখা যাবে । আসলে একই কাজ করতে করতে, একই রকম রোল করতে করতে মনোটোনাস হয়ে গেছিল। তাই একটু ব্রেক নিয়ে ছিলাম । অনেকেই বলতেন কেন কাজ করছেন না। অনেক অফার আসতো। খুব কাছের লোকেরা অনুরোধ করতো। তাই ভাবলাম এবার থেকে আবার অভিনয় করবো। তবে এমন নয় যে সারাবছর কাজ করবো। তবে বছরে ২ থেকে ৩টে কাজ করাই যায়। তবে চরিত্র ও চিত্রনাট্য ভালো হতে হবে।(একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন)তিনটে ছবি করলাম তিন মাসে। প্রথমটা হানিমুন। ছবিটা আউট অ্যান্ড আউট কমেডি মুভি । দর্শকদের খুব ভালো লাগবে। দ্বিতীয়টা হল  হরনাথ চক্রবর্তীর  কাঁটায় কাঁটায়। এটা একটা  মার্ডার মিষ্ট্রি। একটা হোটেলে একজন অভিনেত্রীর মৃত্যুর রহস্য ভেদ।

প্রশ্ন: আপনি তাহলে ডিটেকটিভ এই মার্ডার মিষ্ট্রিতে?

আসলে আমি একজন ব্যারিস্টার। পিকে বোস। তবে ছবিতে আমি রহস্য সমাধান করি।

উত্তর:তৃতীয় ছবিটির পরিচালক নহলি দত্ত। তরুণ মজুমদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। তখনই আমায় বলেছিলো ভালো কিছু  গল্প পেলে আপনার সঙ্গে কাজ করবো। তাই এতো ভালো গল্প নিয়ে এলো যে রাজি হয়ে গেলাম।ছবির নাম অপরাজেয় । এই গল্পটা অনেকটা সামাজিক । ছেলে মেয়েরা বিদেশে যারা থাকে, তাদের বাবা মাদের নিয়ে গল্প।দেখতেই পাচ্ছেন তিনটি ছবির গল্প তিন রকম। তাই করলাম(হাসি) ।

প্রশ্ন:  বেশ কিছু সময় বাদে কাজ করলেন। পরিবর্তন কিছু চোখে পড়লো? এখন তো টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গেছে ।

উত্তর: দেখুন টেকনোলজি তো সময়ের সঙ্গে উন্নত হবেই। তবে ছবির চিত্রনাট্য গল্প ভালো হতে হবে। আর ছবির ট্রিটমেন্ট ভালো হতে হবে। নাহলে বলুন না, অনেক এমন ছবি রয়েছে, ৪০ বছর পরেও দর্শকদের ভালো লাগে।

প্রশ্ন: বাংলা ছবি অনেক এগিয়েছে!! এখন তো  ছবির শুটিং বিদেশে হচ্ছে।

উত্তর:দেখুন ছবির শুটিং কোথায় হবে সেটা ছবির গল্পের উপর নির্ভর করে । গল্প ডিমান্ড করলে ছবি বিদেশে শুট হবে। গল্প কলকাতার হলে কলকাতায় শুট হবে। তবে এখন কিছু ছবির গানের দৃশ্য বিদেশে শুট হচ্ছে।

প্রশ্ন:  কী ধরনের ছবি করতে চান আপনি?

উত্তর: এমন গল্প হবে ছবির যা বেশিরভাগ লোকের কাছে পৌঁছবে ।

প্রশ্ন: আচ্ছা হানিমুন ছবির গল্প  ও আপনার অভিনীত চরিত্র নিয়ে কিছু বলুন।

উত্তর: সমরেশ বসুর গল্প নিয়ে ছবি।আমি একটি কোম্পানির বড়োবাবু। তবে বাকিটা হলে গিয়ে দেখতে হবে। খুব মজার ছবি। দর্শকদের মন ভালো হয়ে যাবে একথা বলতে পারি ।

প্রশ্ন: নতুন কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চান।

উত্তর:যাদের সঙ্গে কাজ করলাম সবাই নতুন । হরনাথ শুধু আগে থেকেই কাজ করেছে। বাকিরা সিনেমার সঙ্গেই যুক্ত ছিল। আমি চিত্রনাট্য ও গল্প দেখেই কাজ করবো। আগেই বলেছি।

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন, আপনার নামে মাঝে মাঝেই রিউমার ছড়ায়। আমিও ২ বার অনেক রাতে আপনাকে বিরক্ত করেছি।আপনার কী মনে হয় তখন। অথচ সারা জীবন কোন কন্ট্রোভার্সি নেই আপনার ।

উত্তর: কী আর বলব।গত বছর আমি আমেরিকা গেছিলাম লাইফটাইম অ্যচিভমেন্ট অ্যওয়ার্ড নিতে। সেখানেই শুনি আমি মারা গেছি।(খুব জোরে হেসে )এতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ ,আমার বলার কিছু নেই । এই সব রটিয়ে কী লাভ করেন তারাই জানেন। আমার কাছে অনবরত ফোন আসতে  থাকে। এটাই সমস্যা। সবাইকে বলতে হই আমি ভালো আছি(হাসি)। হানিমুন দেখুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here