official teaser of ek je chhilo raja
'এক যে ছিল রাজা'র অফিসিয়াল টিজার। সৌজন্যে রেডিওবাংলানেট।

সাহানা চক্রবর্তী

(পূর্বে প্রকাশিতের পর)

সন্ন্যাসীর আবির্ভাব

ঘটনার প্রায় ১২ বছর পর ঢাকায় এসে উপস্থিত হলেন গায়ে ছাইভস্ম মাখা এক সন্ন্যাসী। ১৯২০-র ডিসেম্বর কিংবা ১৯২১-এর জানুয়ারি থেকে প্রায় চার মাস ধরে নদীর ধারে বসে থাকতে দেখা যেত মাথায় জটাধারী এক সাধুকে। সারা গায়ে ছাইভস্ম মাখা, পরনে শুধু এক খণ্ড কাপড়। দিন-রাত, বর্ষা কিংবা শীত, অথবা গ্রীষ্ম — সন্ন্যাসী ওই একই জায়গায় বসে থাকতেন। আর তাঁকে ঘিরে থাকত উৎসাহী জনতার ভিড়।

কিন্তু এক সন্ন্যাসীকে ঘিরে এত উৎসাহ কেন? পরবর্তী কালে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সন্ন্যাসীকে ঘিরে উৎসাহের কারণ হিসেবে এক সাক্ষী জানায়, এত অভিজাত চেহারা, অথচ জটাধারী এক সাধু, দেখলেই বোঝা যেত, সাধারণ সাধু নয়, কোনো অভিজাত বংশের সন্তান। তাই সাধু অচিরেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কখনও কখনও ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ কেউ প্রশ্ন করত, কোথা থেকে এসেছেন তিনি? উত্তরে সাধু হিন্দিতে বলতেন, তিনি পাঞ্জাবের লোক, খুব ছোটোবেলায় ঘর ছেড়েছেন। কেউ কোনো ওষধি চাইলে এক চিমটে ছাই দিতেন। এ দিকে ঢাকা থেকে খুব সহজেই জয়দেবপুরে খবর ছড়িয়ে পড়ল, মেজকুমার ফিরে এসেছেন সন্ন্যাসীবেশে। এ বার ভাওয়ালের মেজকুমারকে (?) দেখতে ভিড় আরও বাড়তে লাগল। প্রশ্নকর্তার সংখ্যাও ক্রমশ বাড়তে লাগল, যা শুনে সন্ন্যাসী অধিকাংশ সময়েই চুপ করে থাকতেন। কখনও বলতেন, তিনি একজন সাধু, তাঁর কোনো পরিবার নেই। কেউ বিশ্বাস করলেন সাধুর কথায়, কেউ বা বললেন, ভণ্ড। যদিও সাধু একবারও দাবি করলেন না যে, তিনিই মেজকুমার। তবুও ভাওয়ালের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল একটাই কথা, মেজকুমার ফিরে এসেছেন!

কুমারদের মেজদিদি জ্যোতির্ময়ী দেবীর কানেও এল কথাটা। তিনি ছেলে বুদ্ধুকে পাঠালেন সন্ন্যাসীকে দেখে আসার জন্য। কাশিমপুরের কয়েক জনকে নিয়ে বুদ্ধু দেখতে গেল সন্ন্যাসীকে। তাঁকে দেখতে মেজকুমারের মতো ঠিকই, কিন্তু তিনিই যে রমেন্দ্রনারায়ণ, তা সঠিক ভাবে নিশ্চিত হতে পারল না বুদ্ধু। অবশেষে সন্ন্যাসীকে নিয়ে আসা হল জয়দেবপুরে। কাশিমপুর রাজবাড়ির এক সদস্য অতুলপ্রসাদ রায়চৌধুরী সন্ন্যাসীকে নিয়ে এলেন তাঁর নিজের বাড়িতে। দিনটা ছিল ১৯২১ সালের ৫ এপ্রিল। অতুলপ্রসাদ খুব ভালো ভাবেই মেজকুমারকে জানতেন। এক সময় দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও ছিল। তাই, সন্ন্যাসী মেজকুমার কিনা, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগেই যাতে লোক জানাজানি না হয়, সেই জন্য সন্ন্যাসীকে ভাওয়াল রাজবাড়ির পরিবর্তে কাশিমপুরে নিয়ে আসা হয়। এখানে এক গাছের তলায় প্রায় এক সপ্তাহ বাস করলেন সন্ন্যাসী। এক সপ্তাহ পর ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁকে হাতির পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হল জয়দেবপুরে। বিশাল গেট পেরিয়ে হাতি ঢুকল রাজবাড়িতে। কামিনী গাছের তলায় এসে হাতির পিঠ থেকে নামলেন সন্ন্যাসী। রাজবাড়ির অতিথিশালায় তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করা হল। এখন আর কেউ থাকে না রাজবাড়িতে। তিন মেয়ে চলে গিয়েছেন তাঁদের শ্বশুরবাড়ি। বৃদ্ধা রানি সত্যভামা এক নাতনিকে নিয়ে প্রাসাদ আগলে পড়ে রয়েছেন কেবল। সন্ন্যাসীকে দেখতে সেই সন্ধ্যায় রাজবাড়ির পুরোনো কর্মচারীরা এবং দূর সম্পর্কিত আত্মীয়েরা এলেন। যদিও কেউই নিশ্চিত হতে পারলেন না ইনিই মেজকুমার কিনা! দোলাচল মন নিয়ে ফিরে গেলেন সকলেই।

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া: এক যে ছিল ভাওয়ালের অভাগা রাজা/১

পর দিন ভাওয়াল এস্টেটের সচিব রায়সাহেব যোগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোটো ভাই তথা রাজবাড়ির জামাই সাগরবাবুকে সঙ্গে নিয়ে সন্ন্যাসীকে দেখতে এলেন। দক্ষিণের বারান্দায় সাধুকে বসে থাকতে দেখলেন তাঁরা। সাগরবাবু খুব কাছ থেকে সন্ন্যাসীকে লক্ষ করতে লাগলেন। তাঁর চোখের মণির রং, শরীরের গড়ন, হাবভাব, বসার ভঙ্গিমা, তাকানোর ভঙ্গি! আশ্চর্য! সব কিছুই যে মিলে যাচ্ছে মেজকুমারের সঙ্গে! বিষয়টি তিনি তাঁর দাদা যোগেনবাবুকে জানালেন। যোগেনবাবু আরও ভালো ভাবে বারংবার পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিলেন।

এর কিছু দিন পর সন্ন্যাসীর কাছে জ্যোতির্ময়ীর ছেলে বুদ্ধু এসে সন্ন্যাসীকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়ে গেল। সন্ন্যাসী এলেন। এই প্রথম জ্যোতির্ময়ী দেখলেন তাঁকে। পরিবারের সকলে ঘিরে ধরে বসে আছে সন্ন্যাসীকে, মাথা নিচু করে বসে আছেন। কিন্তু মাথা নিচু হলেও তাকানোর বিশেষ ভঙ্গিমা তাঁকে তাঁর ভাইয়ের কথা মনে পড়িয়ে দিল। এ বার তিনি ভালো ভাবে লক্ষ করতে লাগলেন সাধুর চোখ, কান, ঠোঁট, চেহারার গঠন, হাত-পায়ের গড়ন ইত্যাদি। সন্ন্যাসীকে জিজ্ঞেস করলেন কত দিন থাকবেন সেখানে? সন্ন্যাসী হিন্দিতে জানালেন, পর দিনই তিনি ব্রহ্মপুত্রে স্নান করতে নঙ্গলবুন্দ যাবেন। জ্যোতির্ময়ী তাঁকে কিছু ফল এবং পায়েস খেতে দিলেন। পায়েস খাওয়ার সময় লক্ষ করলেন, মেজকুমারের মতো ইনিও বাটি ধরে পায়েস খেলেন, বাটি ধরার সময় কড়ি আঙুলটা বেরিয়ে থাকে। তিনি সন্ন্যাসীর চলার ধরন লক্ষ করতে লাগলেন। আবারও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন সন্ন্যাসী। তবে, তাঁর চেহারা কিছুটা মোটার দিকে আর বেশ মজবুত চেহারা। এটুকুই যা ফারাক!

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া : খোদ লেনিনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল যে উপন্যাস

জ্যোতির্ময়ী ছাড়ার পাত্রী নন। ঠিক হল, আবার নিমন্ত্রণ করা হবে সন্ন্যাসীকে। দিনের আলোয় আরও ভালো ভাবে লক্ষ করার জন্য। পর দিন সকালে দেখা গেল, রাজবিলাসের (রাজবাড়ির সদস্যদের থাকার বিশেষ মহল) বারান্দায় পায়চারি করছেন সন্ন্যাসী। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে জ্যোতির্ময়ীর বাড়িতে এলেন তিনি। বাড়ির সকলেই যথারীতি উপস্থিত। সেই সঙ্গেই উপস্থিত পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠা সদস্যা রানি সত্যভামা। তাঁকে দেখে বেশ কিছুটা বিহ্বল দেখাল সন্ন্যাসীকে। তাঁকে চৌকিতে এসে বসতে বললেন, শুধু তা-ই নয় বৃদ্ধাকে বয়সের ভার অতিক্রম করতে এগিয়ে দিলেন সাহায্যের হাত। সন্ন্যাসীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে অনেক অপরিচিত মুখ। সকলেই রাজপরিবারের তরুণ সদস্য। বারো বছর পর মামাকে (?) ফিরে পেতে তাঁরাও আগ্রহী। ছোটো বয়সের স্মৃতির অঙ্কে মিলিয়ে নিতে হবে সাধু জাল কিনা! সাধুও জ্যোতির্ময়ীর কাছ থেকে একে একে জেনে নিলেন সকলের পরিচয়। ঘরের কোণায় সাদা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে কমবয়সি একটি মেয়ে। সে-ও জানতেই এসেছে এ-ই তার সেই ছোটোবেলায় হারিয়ে (?)যাওয়া মামা কিনা। তার দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করলেন সন্ন্যাসী, “ও কে?” জ্যোতির্ময়ী জানালেন, সে তাঁর বড়োবোন ইন্দুময়ীর মেয়ে, ‘কেনি’। কেনিকে দেখে সহায়সম্বলহীন সন্ন্যসীর চোখ ভরে এল জলে। কেনি তখন বিধবা। সন্ন্যাসীর এ হেন বিহ্বলতায় একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে বেড়াতে লাগল সকলের মনে, তা হলে কি…..স্নেহের কেনিকে সাদা থান পরে বিধবা অবস্থায় দেখেই সন্ন্যাসীর চোখে জল!!

mejokumar on left side, sannyasin on the right side.
বাঁ দিকে মেজকুমার, ডান দিকে সন্ন্যাসী। ছবি সৌজন্যে কলকাতা ফোটোওয়াক্স।

তাঁকে দেখানো হল পুরোনো পারিবারিক ছবি। রাজবাড়ির সকল সদস্যই উপস্থিত সেই সব ছবিতে। ছবি দেখে ফের সন্ন্যাসীর চোখ আবেগে ভেসে গেল। যেন পুরোনো হারিয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্ত ছবির মাধ্যমে ফিরে পাওয়ার আনন্দাশ্রু। সেই সঙ্গেই সকলকে ফিরে পাওয়ার আর্তি দু’চোখ জুড়ে। জ্যোতির্ময়ী জিজ্ঞেস করলেন, সাধুর চোখে জল কেন? সাধুর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘মায়া’। কিন্তু পিতৃপরিচয় ভাসিয়ে দিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা নাগা সন্ন্যাসীর আবার কীসের মায়া? বিস্মিত সকলেই!

সন্ন্যাসীকে শোনানো হল, রাজবাড়ির মেজকুমারের মৃত্যু নিয়ে সমস্ত ঘটনা এবং রটনার কথা। শোনানো হল, মেজকুমারের শেষকৃত্য নিয়ে কী ভাবে দু’টি মতামত সমান্তরাল ভাবে চলে আসছে দীর্ঘ বারো বছর ধরে। একটা মত হল, তাঁর শেষকৃত্য হয়েছে দার্জিলিঙে। আর অপরটি, বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁকে দাহ করা যায়নি এবং পরে তাঁর দেহ আর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। কিন্তু জ্যোতির্ময়ী শেষ করার আগেই সন্ন্যাসী বলে উঠলেন, ‘না, দাহ করা হয়নি। জীবিতই আছেন তিনি।’ এ বার সমস্ত ছলনা দূরে সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে সন্ন্যাসীর চোখে চোখ রেখে জ্যোতির্ময়ীর সরাসরি প্রশ্ন করলেন, “আপনার সঙ্গে আমার ভাইয়ের হুবহু মিল। আপনিই কি আমার ভাই?” সন্ন্যাসী স্বীকার করলেন না কিছুতেই। বললেন, “না, আমি আপনাদের কেউ নই।”

কিন্তু এ কথা কিছুতেই ‘মনে’ নিতে পারলেন না জ্যোতির্ময়ী। তিনি লক্ষ করতে লাগলেন সন্ন্যাসীর চোখের মণির রং, চুলের বর্ণ, দাঁতের গড়ন। ভাবতে লাগলেন, কী করে এমন ভুল হয়! যে ভাইয়ের সঙ্গে তিনি বড়ো হয়েছেন, যাঁর চলাফেরার প্রতিটি ভঙ্গিমা থেকে শুরু করে শরীরের গড়ন সবই তাঁর অত্যন্ত পরিচিত, তাঁকে চিনতে এত বড় ভুল কী করে হয়? নিশ্চিত হওয়ার পথে বাধা একটাই, তা হল সন্ন্যাসীর মুখ-হাত-পা, চুল এমনকি চোখের পাতাও ভস্মমাখা। গায়ের রংটা তাই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। তার উপর দীর্ঘদিনের অযত্নে মাথায় জটা, লম্বা দাড়ি। মেজকুমার দাড়ি রাখতেন না কোনো দিন। কিন্তু কণ্ঠস্বর? সেটাও যে হুবহু মেজকুমারের মতোই। তা হলে? একটা দোলাচলতা জ্যোতির্ময়ীর মনে!

আরও পড়ুন রবিবারের পড়া / সুখ জাগানিয়া শহর

নাঃ, আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। ছাইয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গায়ের রঙটা মিলিয়ে দেখতেই হবে। আর সেই ঘোড়ার গাড়ির চাকার ক্ষত? সব যদি মিলেও যায়। গাড়ির চাকার ক্ষতচিহ্নটা তো আর জাল সন্ন্যাসীর পিঠে থাকবে না! কিন্তু কী ভাবে পরীক্ষা করা যায় সন্ন্যাসীকে? তারই উপায় খুঁজতে লাগলেন জ্যোতির্ময়ী। তাঁকে আরও কিছু দিন থেকে যেতে বলা হল। কিন্তু সন্ন্যাসী আর থাকতে রাজি নন। অতঃপর সন্ন্যাসীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার ভার পড়ল বুদ্ধুর ওপর। সন্ন্যাসী ঢাকা ছেড়ে বেশ কিছু দিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। কিন্তু ক’দিন পর ফের নদীর ধারে দেখা গেল তাঁকে। এ বার তাঁদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হল সন্ন্যাসীর। এ বার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তাঁদেরই ছোটো বোন তারিণময়ী।

এ ভাবেই কেটে গেল আরও কয়েকটা দিন। জ্যোতির্ময়ী তাঁর জয়দেবপুরের বাড়িতে ফের নেমন্তন্ন করলেন সন্ন্যাসীকে। তিনি এলেন আবারও। সন্ন্যাসীকে দেখতে যথারীতি আত্মীয় এবং প্রজাদের ভিড়। কিন্তু জ্যোতির্ময়ী অনবরত চেষ্টা করে যেতে লাগলেন, ছাইয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গায়ের রঙটা পরীক্ষা করার জন্য। দু’ দিন ফিরিয়ে দেওয়ার পর তৃতীয় দিন অবশেষে জ্যোতির্ময়ীর দাবি মেনে নিতে রাজি হলেন সন্ন্যাসী। নদী থেকে স্নান করে উঠে এলেন ছাই-ভস্ম না মেখেই। এ বার জ্যোতির্ময়ী মিলিয়ে দেখলেন তাঁর গায়ের রঙ। মেজকুমারেরই মতো। বরং ব্রহ্মচর্যের ফলে তা আগের থেকে আরও কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে। পরীক্ষা করলেন মুখ। হুবহু এক! মিলিয়ে দেখলেন পিঠের মধ্যে ঘোড়ার গাড়ির চাকার সেই ক্ষত। নাঃ, এ বার আর কোনো সন্দেহ নেই। দেখতে পেলেন গায়ে-পায়ে আলসারের ক্ষতর দাগ। শুধু তিনিই নন, উপস্থিত আত্মীয়েরা, রানি সত্যভামা সকলেই নিশ্চিত হলেন, ইনিই মেজকুমার।

কিন্তু সন্ন্যাসী কিছুতেই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন। অতএব জ্যোতির্ময়ী বুদ্ধুকে নির্দেশ দিলেন বাড়ির সামনে জড়ো হওয়া কয়েকশো মানুষের কাছে ঘোষণা করতে মেজকুমারের শরীরের সমস্ত চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে সন্ন্যাসীর দেহে। এ বার পালা তাঁকে দিয়ে স্বীকার করানোর। কিন্তু সন্ন্যাসীও অনড়। এ বার ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল’ করতে লাগলেন জ্যোতির্ময়ী, যতক্ষণ না তিনি নিজেকে মেজকুমার বলে স্বীকার করবেন, ততক্ষণ তিনি কিছু খাবেন না। অতঃপর বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন সন্ন্যাসী। নিজেকে ভাওয়ালের মেজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায় বলে স্বীকার করে নিলেন। উপস্থিত জনতাকে বাবা-মায়ের সঠিক নাম-সহ ধাত্রী মায়ের নাম যে অলকা সে কথাও জানালেন। এ বার আর কারও সন্দেহ রইল না। সকলেই মেজকুমারের নামে জয়ধ্বনি দিতে লাগল। মেয়েরা উলুধ্বনি দিল। দিনটা ১৯২১ সালের ৪ মে। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন