স্কুলের হোমওয়ার্কে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত, অভিনব প্রতিবাদ মার্কিন মায়ের

0
333

নিউইয়র্ক:    “ছিঃ ছিঃ ছিঃ রানি রাঁধতে শেখেনি/শুক্তানিতে ঝাল দিয়েছে অম্বলেতে ঘি”।

ছোটোবেলায় পড়া ছড়ার ক’টা লাইন এখনও মনে আছে সবারই। আরও বেশি করে মনে আছে, কারণ আমাদের সমাজে খোকন নয়, রানিদেরই রাঁধতে শিখতে হয়। শিখতে হয় ঘরের কাজ। মার্কিন সমাজেও কি তাই? সে অনেক বড়ো প্রশ্ন। তবে রানিদের রাঁধতে না শেখা যে লজ্জার আমাদের আগের প্রজন্ম, তারও আগের প্রজন্ম কিন্তু মেনেই নিয়েছে। মেনে নিয়েছি আমরাও। লিন কিন্তু পারেননি। নিউইয়র্কবাসী লিন পলভিনোর প্রতিবাদটি বেশ অভিনব। মেয়ের স্কুলের হোমওয়ার্কে লিনের নজরে আসে লিঙ্গ বৈষম্যমূলক কিছু কথা। দ্বিতীয় বার না ভেবে হোম ওয়ার্কটাই পালটে দিলেন মা।
শূন্যস্থান পূরণের হোমওয়ার্কের গল্পটা ছিল এই রকম- “লিজার মা আবার কাজে ফিরে যাওয়ায় লিজা মোটেও খুশি নয়। সকালগুলো ভয়ংকর ভাবে কাটছে। স্কুলের জন্য একা তৈরি হতে হয়েছে তাকে। মা আরও সকালে বেরিয়ে যাচ্ছে। বাবা জলখাবার বানিয়েছে, খেতে খুব একটা ভালো হয়নি। লিজার জন্মের আগে তার মা একটা বড়ো অফিসে কাজ করত। আবার সেখানে যাওয়া শুরু করেছে মা।”


প্রতিটা লাইনেই বেশ কিছু লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য খুঁজে পেয়ে লিন বেশ অবাক। এত ছোটো শিশুর মনে তো ঢুকতে দেওয়া যায় না এই বৈষম্য। অতএব নতুন করে বানানো হল গোটা হোমওয়ার্ক:
“লিজার জন্মের আগে তার মা একটা বড়ো অফিসে কাজ করতেন। লিজার জন্মের পর টানা এক বছর বেতন সহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছিলেন মা। তার পরেও লিজার দেখভালের জন্য বাড়তি ছুটি দিয়েছিল অফিস। এখন লিজার ভাই খুব ছোটো। ওদের বাবাও অফিস থেকে পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে ওদের সঙ্গেই আছেন, ছেলেমেয়ের যত্ন করছেন, সকালের জলখাবারও বাবাই বানাচ্ছেন। অনেক দিন পর মা আবার অফিস যাচ্ছেন, তাই বেজায় খুশি ছোট্টো লিজা। ঘর পরিষ্কারের কাজে লিজাও বাবার সঙ্গে হাত লাগাচ্ছে। লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করা হয় না, এ রকম এক সমাজে বড় হওয়ার সুযোগটা লিজার কাছে অনেক বড় পাওয়া”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here