নিতান্তই ‘সাদামাটা’ বাজেট, দাগ কাটতে পারল না শেয়ার বাজারে

0

বিশেষ প্রতিনিধি: কেউ বলছেন, নিতান্তই সাদামাটা বাজেট। কেউ আবার বলছেন এই বাজেট আদ্যন্ত মধ্যমেধার। কেউ তো এ সবকে ছাপিয়ে বলেই ফেলছেন, এক কথায় ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের বাজেট আদতে দিশাহীন। যে কোনো বাজেটেই শাসক দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য়ের মৃদু প্রভাব থাকে। কিন্তু এ বারের বাজাটে তা গাঢ় ভাবে ফুটে উঠলেও সরকার যে আর্থিক সংস্কারের পথে গেল না কি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করল, কোনোটাই স্পষ্ট ভাবে বোঝা গেল না।

স্বাভাবিক ভাবে দেশের শেয়ারে বাজারে কেন্দ্রীয় বাজাটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সে ভাবে ছাপ ফেলতে অক্ষম হল। আর পাঁচটা জাতীয় ইস্যুর ক্ষেত্রে যেমনটা হয়, মানে কোনো একটা ভালো খবরে ১০০-২০০ পয়েন্ট ওঠা আর খারাপ খবরে ওই পরিমাণ পড়ে যাওয়া ছাড়া শেয়ার বাজারের প্রাপ্তি বলতে কিছুই ছিল না বৃহস্পতিবারের বাজারে।

যেমন সাড়ে বারোটা নাগাদ শেয়ার বাজারের প্রতিটি স্টকের দাম আচমকা নীচের দিকে নামতে শুরু করে। কারণ তার আগেই কেন্দ্র লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের থেকে প্রাপ্ত লাভের উপর ১০ শতাংশ হারে কর বসায়। বাজারে সাময়িক একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ব্যাপারটা ঠিক কী তা না বুঝতে পারার জন্য। তার পরই ফের সেনসেক্স ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কারণ সরকারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকল্পনা। তবে বাজার বন্ধ হওয়ার মুখে ফের বাজারে পতন। তখন না কি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, এই বাজেটে বেশির ভাগ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ক্ষেত্র বিশেষে পরিকল্পনা গৃহীত হলেও বেশ কিছু সংস্থার উপর কাস্টম ডিউটি বাড়িয়ে দেওয়ায় নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়বে। মানে ১৩৫ কোটির দেশের এই সুবিশাল এক বাজেট, দেশের শেয়ার বাজারে ঠুনকো কিছু কেরামতি দেখাতে সক্ষম হলেও গাঢ় কোনো ছাপ ফেলতেই পারল না। বিনিয়োগকারীরা কী করবেন-

নতুন কিছু নয়, বাজার চলছে বাজারের মতোই। অতি সম্প্রতি কালে গুজরাতের বিধানসভা ভোট যেমন বহু চর্চিত হয়ে উঠেও কোনো সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারেনি, তেমনই এ ক্ষেত্রেও বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতে খুব একটা রদবদল হবে বলে মনে হয় না।

সংযোজন: শুক্রবার বাজার খোলার পর থেকেই বাজারের মতিগতি ভালো ঠেকছিল না। যার জেরে স্টক বিক্রির হিড়িক লেগে যায়। যা পরে মড়কে পরিণত হয়। বাজেট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আশঙ্কায় ভুগতে থাকা বিনিয়োগকারীরা যখন স্টক বিক্রি করার দিকে ঝোঁক দেখাচ্ছেন, তখন নতুন বিনিয়োগকারীরা কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়েই স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.