ফ্রান্স – ১                 বেলজিয়াম – ০

ওয়েবডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে গতিময় ম্যাচে ডার্ক হর্স বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স। দলগত সংহতি যে একটা দলের কাছে সবথেকে বড়ো ফ্যাক্টর ম্যাচ জয় করার তা ফের প্রমাণ করল ফরাসিরা। ম্যাচের শুরুতে দু’দল যে গতিকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষের ঘাড়ে চেপে বসার চেষ্টা চালাবে তা প্রায় সবারই জানা ছিল। আর এ ধরনের ম্যাচে কোচেদের ট্যাক্টিকাল বুদ্ধিও যে একটা বড়ো ফ্যাক্টর তা খুতিয়ে ম্যাচ দেখলেই প্রমাণিত। ডিফেন্সকে জমাট করে গতিতে বিপক্ষকে ধ্বংস করা।

ম্যাচের শুরু থেকেই গতিকে সম্বল করে এগানোর চেষ্টা দু’দলের। পেন্ডুলামের মতো খেলায় প্রতিফলিত হয়ে থাকে দু’দলের আক্রমণের বৈচিত্র্য। তবে সেইরকম ভাবে ফিনিশিং পাচ্ছিল না কোনো দলই। অবশ্য ম্যাচের পনেরো মিনিট নাগাদ প্রথম সুযোগ বেলজিয়ামের। কিন্তু অধিনায়ক হাজ্যার্ডের শট পোস্ট ঘেঁসে বেড়িয়ে যায়। ডিফেন্সকে মজবুত করে আক্রমণে ঝাঁজ বাড়াতে থাকে ৯৮-র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাও। এদিনও গোল না পেলেও সারা ম্যাচ ফ্রান্সের নীল জার্সিতে নজর কাড়লেন স্ট্রাইকার অলিভার জিরু। প্রথমার্ধের যা সুযোগ পেয়েছিলেন তা-তে নিজেই হ্যাটট্রিক সেরে ফেলতেন। তবে বিরতিতে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন পাভার্ড কিন্তু ফ্রান্সকে লিড দিতে ব্যর্থ তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ দু’দলের। ফের সুযোগ পেয়েছিল জিরু। এবার অবশ্য তাঁর শট বেলজিয়াম ডিফেন্ডার কোম্পানির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল মানসিক ভাবে অনেকটা এগিয়ে ফ্রান্স। চাপের মুখ থেকে কী ভাবে নিজেদের তৈরি করতে হয় তা ভালো মতনই জানেন দেঁশ-র ছেলেরা। হলও তাই। পাঁচ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে আসা বলে অনবদ্য হেডে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন উমতিতি। পিছিয়ে পরে ক্রমাগত আক্রমণ শানালেও ফরাসি ডিফেন্সে ছেঁদ আনতে ব্যর্থ রবার্তো মারটিনেজের ছেলেরা। এ দিন কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ লুকাকু। বলতে গেলে গোটা ম্যাচে তাঁকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তাই একের পর এক ঝড়ের মতো বেলজিয়ান আক্রমণ ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সে শেষ হয়ে গেছে।

ফলে ১৯৮৬-র পর একই অবস্থানে পরে রইল বেলজিয়াম। সেবার সেমিতে আর্জেন্তিনা এবার ফ্রান্স।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন