ওয়েবডেস্ক: লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার সেন্ট্রাল হলে ১৯৬৬-র ২০ মার্চ দুপুরে বিশ্বকাপের প্রদর্শনী জাঁকজমকের সঙ্গেই চলছে। ট্রফি দেখতে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। ঘটনাক্রমে ওখানে এক পাশে চার্চ-সম্পৃক্ত কার্যাবলি চলছিল। ধারণা, সেই ফাঁকে ঝোপ বুঝে কোপ মেরে সোনার জুলে রিমে ট্রফি, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার ডলার, নিমেষে গায়েব।

পুলিশবাহিনী পড়িমরি করে ছুটল। চার ধার ঘিরে ধরে যাঁকে ধরা হল, তাঁর নাম জ্যাকসন নয়, তিনি এডওয়ার্ড বেট্‌শলে। সে একটা পাতি ছিঁচকে চোর। জেরার মুখে সে জানাল, চুরি সে করেনি। কে এক জন তাকে মিডলম্যান হওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তাকে ৫০০ পাউন্ড দেওয়ার চুক্তি হয়।

২৭ মার্চ, ডেভিড করবেট তাঁর পোষা চার বছরের সাদা-কালো কুকুর পিকলসকে নিয়ে রোজকার মতো ঘুরতে বেরোলেন। দক্ষিণ লন্ডনের পার্কে খেলতে খেলতে পিকসলের নজরে পড়ল ঝোপঝাড়ের আড়ালে খবরের কাগজে মোড়া, কী একটা পড়ে আছে। মুখে নিয়ে সোজা এক ছুটে মালিকের কাছে হাজির পিকলস। কাগজ খুলে ডেভিডের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা।

এ তো সাত রাজার ধন মানিক-জুলে রিমে ট্রফি। আর পায় কে। বিশাল বিশাল খবরে রাতারাতি বিখ্যাত ডেভিড করবেট পিকলস। ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ কিক-অফ হওয়ার চার মাস আগে ঘরের ট্রফি ঘরে এল। বিশ্বকাপ জেতার পর ইংল্যান্ড ব্যাঙ্কোয়েটে ধুমধাম করে পিকলসকে তার অসামান্য কাজের জন্য রূপার পদক গলায় পরিয়ে সম্মান জানানো হল।

পিকলসের দৌলতে মালিক পেলেন ৫০০০ ডলার, যা দিয়ে সারেতে বাড়ি কিনে ফেললেন তিনি। দু:খের বিষয়, পরের বছর ১৯৬৭ পিকলস মারা যায়। কিন্তু বিশ্ববাসী আমৃত্যু তাকে সেলাম করে, প্রতিটি বিশ্বকাপ ফুটবল অনুরাগীর কাছে সে আদরণীয়।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন