খবর অনলাইন: অনুরাগ কাশ্যপের ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিটির পাশে দাঁড়িয়েছে বলিউড। চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালও ছবিটিতে আপত্তি করার মতো কিছু দেখেননি। ছবিটির প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপ বুধবার সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিলম্‌ সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) তথা সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। কোর্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রেখেছে।

এ দিকে চলচ্চিত্রটির নাম-সহ নানা পরিবর্তনের দাবি করেছে সিবিএফসি সংশোধনী কমিটি। বুধবার তারা জানিয়েছে, চলচ্চিত্রনির্মাতারা যদি ‘এ’ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন, তা হলেও ওই পরিবর্তনগুলি করতে হবে।

সেন্সর বোর্ডের প্রধান পহলাজ নিহালনি ‘উড়তা পঞ্জাব’ ছবিটিতে ৮৯টি অংশ ছাঁটাইয়ের দাবি করেছেন। বুধবার মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলিউডের চলচ্চিত্রনির্মাতারা ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপের পাশে দাঁড়িয়ে পহলাজ নিহালনিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁরা বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতায় জোর দেন। ফিলম্‌ অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়ার প্রধান মুকেশ ভাট বলেন, “একটা মানুষ যিনি ফিলমের এগিয়ে যাওয়ার পথে সাহায্য না করে প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। এটা সহ্য করা যায় না। চলচ্চিত্রজগৎ এটা মেনে নিতে পারে না। আমরা চাই উনি চলে যান। ওঁর সমস্ত পদক্ষেপই বিদ্বেষপ্রসূত এবং কুৎসিত। উনি মিথ্যে কথা বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটায় বিলম্ব করিয়ে দেন আর ভয় দেখান।” মহেশ ভাট বলেন, একটা ফিলম্‌ একটা আয়নার মতো কাজ করেছে। মাদকের বিপদ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা বুঝিয়ে ভারতীয় সমাজকে লজ্জায় ফেলেছে। সেই ছবিটির শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। এটা আদৌ ফিলম্‌ ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা নয়, দেশের সমস্যা।

অমিতাভ বচ্চন টুইট করে বলেছেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন নই। তবে এটুকু বলতে পারি, আমাদের সৃজনশীলতাকে খুন করবেন না। সৃজনশীলতাকে খুন করা মানে আমাদের আত্মাকে খুন করা।” সেন্সর বোর্ডের আচরণের প্রতিবাদ করেছেন আমির খান। বলেছেন, ব্যাপারটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। ছবিটিকে এই টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে খুব দুঃখ পাচ্ছি। যতদূর জানি, ছবিটির বিষয়বস্তু হল মাদকাসক্তি। এতে একটা সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি না, ছবিটিতে কোনও রকম কাটছাঁট করা উচিত বা দর্শকদের ছবিটি থেকে দূরে রাখা উচিত।”

চলচ্চিত্রনির্মাতা জোয়া আখতার বলেন, “বালিতে মুখ গুঁজে থাকলে সমস্যা দূর হয় না। ৮৯টি অংশ ছাঁটাইয়ের কথা বলে কোনও কিছুকে ‘অ্যাডাল্ট’ সার্টিফাই করা যায় না। সমাজে কী ঘটে চলেছে, তা আমরা সব সময় অস্বীকার করে চলেছি। এমন ভাব করছি, যেন এ সব কিছু ঘটে না। কোনও মাদক সমস্যা নেই, কোনও ধর্ষণ হয় না, কোনও জাতিভেদ নেই… গোটা ব্যাপারটাই হাস্যকর।”

এমনকি সেন্সর বোর্ডের সরকার-মনোনীত রিভ্যাম্প কমিটির প্রধান শ্যাম বেনেগালও ছবিটির সমর্থনে মত প্রকাশ করেছেন। বুধবার বেনেগালের জন্য ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। ছবিটি দেখে বেনেগাল বলেন, “কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত সুন্দর একটি ছবি ‘উড়তা পঞ্জাব’।”

আগামী ১৭ জুন ‘উড়তা পঞ্জাব’ মুক্তি পাওয়ার কথা। আর ন’ দিনও বাকি নেই। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ছবিটির প্রযোজক সংস্থা অনুরাগ কাশ্যপের ফ্যান্টম ফিলম্‌ প্রাইভেট লিমিটেড বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বলে, তারা সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনও চিঠি পায়নি। তারা ফিলম্‌টির সার্টিফিকেটের জন্য ১০ মে আবেদন করেছিল। আদালতে পেশ করা আবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ফিলম্‌টির সার্টিফিকেটের বিষয়টি সেন্সর বোর্ডের রিভিউ কমিটির কাছে রয়েছে, কিন্তু কমিটির তরফে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেন্সর বোর্ডের তরফ থেকে ফিলম্‌টিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়া সংক্রান্ত একটি চিঠি ফ্যান্টমের দফতরে পৌঁছেছে। সেন্সর বোর্ড বলেছে, ছবিটির নাম থেকে ‘পঞ্জাব’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। আর ছবিটিতে যেখানে যেখানে পঞ্জাবের নাম করা হয়েছে, সে সব অংশ বাদ দিতে হবে। পঞ্জাবের যে সব শহরের নাম ছবিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে, সে সব বাদ দিতে হবে এবং এমএলএ, এমএলসি প্রভৃতি শব্দ ছাঁটাই করতে হবে।

ইতিমধ্যে ‘উড়তা পঞ্জাব’কে সেন্সরের ছাড়পত্র না দেওয়ার বিষয়টি প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপ এবং সেন্সর বোর্ডের প্রধান পহলাজ নিহালনির মধ্যে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়েছে। পহলাজ নিহালনি ও সেন্সর বোর্ডের তুলোধোনা করে অনুরাগ টুইট করে বলেছিলেন, এঁরা ডিক্টেটর। ভারতের অবস্থা উত্তর কোরিয়ার মতো। নিহালনি এক টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অভিযোগ করেন, পঞ্জাবের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার জন্য কাশ্যপ আম আদমি পার্টির টাকা খেয়েছেন। নিহালনি কী ভাবে এই সিদ্ধান্তে এলেন তা কেউ বুঝতে পারছে না তবে এটা মনে করিয়ে দেওয়া দরকার গত কালই অনুরাগ ‘উড়তা পঞ্জাব’ ইস্যু থেকে সব রাজনৈতিক দলকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। নিহালনির অভিযোগের উত্তরে অনুরাগ বলেছেন, “আমি যে টাকা নিয়েছি তা নিহালনি প্রমাণ করুন। মিথ্যে কথাটা কী করে বলতে হয় তা-ও তিনি শেখেননি।”

ছবি: সৌজন্যে পিটিআই

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here