খবর অনলাইন: বলিউড ফিল্‌ম ‘উড়তা পঞ্জাব’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপ ফিল্‌ম সেন্সর বোর্ডের প্রধান পহলাজ নিহালনিকে ‘ডিক্টেটর’ বলার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর ছবিটির নির্মাতাদের আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, আর ন’ মাসের মাথায় পঞ্জাবে নির্বাচন। সে কথা মাথায় রেখেই ছবিটি নিয়ে আপত্তি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ছবিটি দেখবেন সেন্সর বোর্ডের  সরকার-মনোনীত রিভ্যাম্প কমিটির প্রধান শ্যাম বেনেগাল।

পঞ্জাবের মাদক চক্র নিয়ে তৈরি, শাহিদ কাপুর, করিনা কাপুর ও আলিয়া ভাট অভিনীত হিন্দি ছবি ‘উড়তা পঞ্জাব’ থেকে সব রকম পঞ্জাব-যোগসূত্র ছেঁটে ফেলার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্‌ম সার্টিফিকেশন’ (সিবিএফসি) তথা সেন্সর বোর্ড। এ বার ছবির নাম থেকে ‘পঞ্জাব’ শব্দটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেন্সর বোর্ডের সংশোধনী কমিটি। কমিটির অভিমত, পঞ্জাবের বদলে কোনও কল্পরাজ্যের প্রেক্ষাপটে ছবিটি দেখানো হোক। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ছবিটি থেকে যা যা বাদ দিতে বলা হয়েছে তা বাদ না দিলে ছবিটি মুক্তির ছাড়পত্র পাবে না। সেন্সর বোর্ড প্রথমে এই ছবিটি নিয়ে আপত্তি তোলে। তার পর ছবিটি যায় সংশোধনী কমিটির কাছে।

এ সব দেখে যারপরনাই ক্ষুব্ধ অনুরাগ কাশ্যপ। তিনি বলেন, “পহলাজ নিহালনি উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের মতো আচরণ করছেন। তিনি এক জন ডিক্টেটরের মতো সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান। তিনি ছবিটি নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে আপত্তি করেছেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে লিখিত ভাবে কিছু জানাননি।”

অনুরাগের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর মঙ্গলবার বলেন, চলচ্চিত্রনির্মাতারা সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। ফিল্‌ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ আলাদা সংস্থা। এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এর প্রধান।

রাঠোরের বক্তব্যের জবাবে কাশ্যপ জানান, “আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠি চাই। তা না পেলে আমরা আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারি না। গোটা ব্যাপারটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

গোটা ব্যাপারটাই যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা বুঝতে শার্লক হোমস হওয়ার দরকার পড়ে না বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করেন। তাঁদের বক্তব্য, আগামী ৯ মাসের মধ্যে পঞ্জাবে নির্বাচন। যদিও পঞ্জাবের এনডিএ সরকারের অন্যতম শরিক সুখবীর সিং বাদলের নেতৃত্বাধীন শিরোমণি অকালি দল (স্যাড) বলেছে চলচ্চিত্র মুক্তির ব্যাপারে তাদের কোনও হাত নেই, পাশাপাশি একই নিঃশ্বাসে এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, কোনও ভাবে পঞ্জাবের ‘মানহানি করা’র চেষ্টা হলে তা আটকানো হবে। বিভিন্ন সমীক্ষার রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছেন, মাদকাসক্তির সমস্যা পঞ্জাবে বিরাট আকার নিয়েছে। রাজ্যের তিন কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ এর শিকার। গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যা আরও তীব্র। এ বারের নির্বাচনে শাসক দল ‘স্যাড’ ক্ষমতাচ্যুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় ‘উড়তা পঞ্জাব’ তাদের অবস্থা আরও সঙ্গিন করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত রিভ্যাম্প কমিটির প্রধান শ্যাম বেনেগালের জন্য বুধবার ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর বিশেষ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেনেগাল মঙ্গলবার পিটিআইকে বলেন, “ছবিটি আমি দেখিনি। সুতরাং এতে কী আছে তা বলতে পারব না। কাল দেখব। তার পরেই কিছু বলতে পারব। তার আগে কিছু বলা উচিত নয়।” করণ জোহর, মহেশ ভাটের মতো বলিউডের বহু চলচ্চিত্রনির্মাতা চলচ্চিত্রটির সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সেন্সরিং কোনও সমাধান নয়।

এখন একটাই প্রশ্ন, ‘উড়তা পঞ্জাব’ কি ১৭ জুন মুক্তি পাবে ?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here