খবর অনলাইন: দুর্বল আইন এবং ততোধিক দুর্বল তার রূপায়ণ। একে হাতিয়ার করে দিন দিন বেড়ে চলেছে পরিবেশগত অপরাধ, যে অপরাধের আর্থিক মূল্য ২৫,৮০০ কোটি ডলার। রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ও ইন্টারপোল-এর এক যৌথ রিপোর্টে এই হিসেব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তার প্রাক্কালে শনিবার এই রিপোর্ট প্রকাশ করে ইউএনইপি ও ইন্টারপোল জানিয়েছে, ২০১৪ সালে যেখানে পরিবেশগত অপরাধের আর্থিক মূল্য ছিল ৭০০ কোটি থেকে ২১,৩০০ কোটি ডলারের মধ্যে, সেখানে ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০ কোটি থেকে ২৫,৮০০ কোটি ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ২৬ শতাংশ।

কী পরিমাণে পরিবেশগত অপরাধ বাড়ছে তা তুলে ধরে ইন্টারপোল এক বিবৃতিতে বলেছে, ছোট অস্ত্রের যে অবৈধ বাণিজ্য হয় তার চেয়েও পরিবেশগত অপরাধ অর্থমূল্যে অনেক বড়ো। অপরাধমূলক উদ্যোগ হিসেবে পরিবেশগত অপরাধের স্থান আপাতত চার নম্বরে। আগে রয়েছে মাদক চোরাচালান, জাল-মেকির ব্যবসা এবং মানুষ পাচার।

পরিবেশগত অপরাধ বলতে কী বোঝায় ?

যৌথ রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিবেশগত অপরাধের পড়ে বন্যপ্রাণ নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য, বন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধ, সোনা ও অন্য খনিজ পদার্থ নিয়ে অবৈধ কারবার, মাছের বেআইনি চাষ, বিপজ্জনক বর্জ্য পদার্থ পাচার এবং কার্বন ক্রেডিট নিয়ে জালিয়াতি। এই অপরাধগুলো থেকে যে অর্থ আয় হয় তা বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কাজে লাগে। “সারা বিশ্ব জুড়ে যে ভাবে পরিবেশগত অপরাধ বেড়ে চলেছে তা খুবই উদ্বেগজনক। এই ঘৃণ্য অপরাধগুলো থেকে যে অর্থ আয় হচ্ছে তা নিরাপত্তাহীনতায় ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং এই অপরাধমূলক কাজে যুক্ত অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক চক্রগুলিকে রসদ জোগাচ্ছে। আরও দেরি হওয়ার আগে এই ক্রমবর্ধমান অপরাধের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের এখনই নেমে পড়া উচিত”—ইউএনইপি-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আখিম স্টাইনারকে উদ্ধৃত করে ইন্টারপোল এ কথা বলেছে।

ইন্টারপোল-এর সেক্রেটারি জেনারেল ইউরগেন স্টক বলেছেন, “পরিবেশগত অপরাধ আতঙ্কজনক গতিতে বেড়ে চলেছে। এই অপরাধ এতটাই জটিল যে এর মোকাবিলার জন্য চাই বিভিন্ন ক্ষেত্রের এক যোগে এগিয়ে আসা এবং সীমান্ত এলাকাগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা।”

বন্য প্রাণীর চোরাশিকার কতটা বেড়েছে “

গত ১০ বছরে বিশ্বের মোট হাতির অন্তত ২৫ শতাংশ খুন হয়েছে। বিশ্বের সব চেয়ে সহজভেদ্য বন্যপ্রাণীদের অন্যতম হাতি আর গণ্ডার। এদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। ইউএনইপি-ইন্টারপোল যৌথ রিপোর্টের হিসেব, গত ১০ বছরে একমাত্র তানজানিয়াতেই চোরাশিকারিরা প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার করে হাতি মেরেছে।en3

এএফপি জানিয়েছে, ভারতে পুরো ২০১৫ সালে চোরাশিকারিরা যতগুলি বাঘ মেরেছে, এ বছর এপ্রিলের মধ্যেই তারা সেই সংখ্যায় পৌঁছে গিয়েছে। ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটির তথ্য উদ্ধৃত করে ওই সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ২০১৫ সালে চোরাশিকারিদের হাতে খুন হয়েছিল ২৫টি বাঘ। আর ২০১৬-এর এপ্রিলের মধ্যেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬। সংবাদসংস্থা বলেছে, বাঘের মাংস ও হাড় নাকি বিভিন্ন রোগে ওষুধ হিসেবে ভালো কাজ করে। তাই প্রতিবেশী দেশ চিনে বাঘের মাংস ও হাড় বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here