নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান : আন্দামানে বেড়াতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আটকা পড়লেন বর্ধমান শহরের ১১ জন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে পর্যটকদের ফিরিয়ে  আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের ফিরে আসার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে একটা অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বর্ধমানের টিকরহাটের বাসিন্দা অধ্যাপক সজলকুমার ভট্টাচার্য। 

আসানসোলের কাজী নজরুল ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য তথা ইংরাজির অধ্যাপক সজলবাবু জানান, গত ১ ডিসেম্বর টিকরহাট এলাকার ১১ জন আন্দামানে বেড়াতে গিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা ৭৯ বছরের বিনয় ভট্টাচার্যও। বৃহস্পতিবার হ্যাভলক আইল্যাণ্ড থেকে বিনয়বাবু জানিয়েছেন, চরম সংকট দেখা দিয়েছে খাবার এবং পানীয় জলের। হাহাকার তৈরি গোটা দ্বীপ জুড়ে। এর সঙ্গে আরও একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে বিনয়বাবুর ক্ষেত্রে। তা হল তাঁর ওষুধ। তাঁর ওষুধও ক্রমশই শেষ হয়ে আসছে। তাই সজলবাবুরা খুবই চিন্তিত। কী ভাবে কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এ দিকে বৃহস্পতিবার প্রবল ঝড়বৃষ্টির জেরে শুরু করা যায়নি উদ্ধারকাজ। তবে নিরাপদেই আছেন আন্দামানের হ্যাভলক এবং নীল দ্বীপে আটক ১৪০০ পর্যটক নিরাপদেই আছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন তিনি বলেন, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। ঝড়বৃষ্টির দাপট একটু কমলেই উদ্ধারকাজ শুরু হবে। আটকে পড়া পর্যটকদের পরিবাবের চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনীর ৪টি জাহাজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের কারণে জাহাজগুলি তীরে ভিড়তে পারেনি। বিমানপরিবহণ সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে যাঁরা আন্দামান যাচ্ছেন বা সেখান থেকে ফিরছেন তাঁদের বিমান বাতিল বা সফরসূচি পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত কোনো চার্জ লাগবে না। 

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দামান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও মুখ্যসচিব। প্রয়োজনে একটি বিশেষ দল পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান। 

ইতিমধ্যে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘বরদা’ আরও শক্তিশালী হয়ে শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং এর জেরে আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here