নয়াদিল্লি: ২০১১-এর লোকগণনা অনুযায়ী ভারতীয় মহিলাদের সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ। ১৯৪৭-এ স্বাধীনতার পর থেকে মহিলা সাক্ষরতার হার যতটা বেড়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি বেড়েছে দেশের মহিলাদের স্বাধীনতা? কী বলছে সমীক্ষা? মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লাইড ইকনমিক রিসার্চের উদ্যোগে আয়োজন করা সমীক্ষা থেকে উঠে আসা পরিসংখ্যান বলছে, নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৪.৯৯% মহিলার।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া 

২০১১-১২-র সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৭৯.৮% মহিলার এই ২১ শতকে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার জন্যও নিতে হয় পরিবার কিংবা স্বামীর অনুমতি। সারা দেশের ৩৪টি রাজ্য এবং অঙ্গরাজ্য জুড়ে ৩৪০০০ মহিলাকে নিয়ে ২০১২-তে আয়োজন করা হয়েছিল ভারতীয় মানব উন্নয়ন সমীক্ষার। মহিলাদের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৮১-এর মধ্যে।

পছন্দমতো স্বামী বাছা

মহিলাদের স্বাধীনতার রাজ্যভিত্তিক তুলনা করে দেখা গিয়েছে উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোয় মহিলাদের স্বাধীনতা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি। পছন্দমতো স্বামী বেছে নেওয়ার অধিকার সব চেয়ে বেশি রয়েছে মণিপুরের মহিলাদের (৯৬.৩%)। এই বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাজস্থান (মাত্র ১%) সহ উত্তর ভারতের সব রাজ্যই। ৫৮% মহিলা বলেছেন, মুদিখানার দোকানে যেতেও তাঁদের প্রয়োজন হয় পরিবারের গুরুজনের অনুমতি। ২০০৫-এর সমীক্ষায় এই সংখ্যাটা ছিল বেশ কিছুটা কম (৪৪.৮%)।

শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ

ভারতের মাত্র ২৭% মহিলা নিযুক্ত রয়েছেন শ্রমশক্তিতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের থেকে পিছিয়ে রয়েছে একমাত্র পাকিস্তান।

বাড়িতে রান্নার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত 

সারা দিনে বাড়িতে কী রান্না হবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারও পুরুষদের। এ ক্ষেত্রেও উত্তরপূর্ব ভারতের মহিলারা এগিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মহিলাদের চেয়ে। 

বিয়ের আগে স্বামীকে দেখা

দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মহিলা বলেছেন, তাঁরা বিয়ের আগে তাঁদের স্বামীকে কখনও চোখেই দেখেননি। অবশ্য বিভিন্ন রাজ্যে এই সংখ্যার যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। যেমন, মণিপুরের ১০০ শতাংশ মহিলাই বলেছেন, তাঁরা বিয়ের আগেই স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। আবার বিহারের ৯৪% মহিলা বিয়ের দিনই প্রথম স্বামীকে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

২০০৫ এবং ২০১২-এর সমীক্ষা তুলনা করে দেখা গেছে, ২০০৫-এর পর থেকে মিজোরাম, সিকিম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিসংখ্যানের দিক থেকে অনেকটাই উন্নতি করেছে ২০১২-তে। কিন্তু ২০০৫-এ পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে ২০১২-তে। এদের মধ্যে রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড উল্লেখযোগ্য।

‘ভারতীয় মানব উন্নয়ন সমীক্ষা, ২০১২’-এর পরিসংখ্যান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সাক্ষরতার হার অথবা লিঙ্গ-অনুপাতের সঙ্গে ভারতীয় মহিলাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সমানুপাতিক হারে বাড়েনি। দিল্লিতে সাক্ষরতার হার ভারতের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি (৮৬.২১%)। অথচ সেখানকার মাত্র ২০.৯% মহিলা জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁদের। মেঘালয়ের সাক্ষরতার হার দিল্লির তুলনায় বেশ কম (৭৪.৪৩%) হওয়া সত্ত্বেও এখানকার ৭৬.৯% মহিলা নিজের পছন্দমতো স্বামী বেছে নিতে পেরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাক্ষরতার হার নয়, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক আবহাওয়ার মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে মহিলাদের স্বাধীনতা। এই প্রসঙ্গে দিল্লির ‘অল ইন্ডিয়া প্রগ্রেসিভ উওম্যান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সেক্রেটারি কবিতা কৃষ্ণন বলেছেন, ”স্বশাসনের অধিকার না থাকাটাই ভারতের মহিলাদের সব চেয়ে বড়ো সমস্যা”।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন