বৃহস্পতিবার ছিল কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর প্রথম ‘মাসপয়লা’। বেতনের টাকা তোলার জন্য যে ব্যাঙ্ক আর এটিএমের সামনে লম্বা লাইন পড়বে এই আন্দাজ করাই গিয়েছিল। আদৌ বেতনের টাকা তোলা যাবে কি না সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে চিন্তার অন্ত ছিল না।

এই মাসপয়লার কথা ভেবেই বুধবার ভুরি ভুরি আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফ থেকে। মানুষ যাতে হয়রানির স্বীকার না হন, সেই জন্য পর্যাপ্ত ৫০০ আর ১০০ টাকার নোটের জোগানের কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবে দেখা গেল সে সব শুধু আশ্বাস মাত্র। আদতে কিছুই হয়নি। যে ভোগান্তি এত দিন চলছিল সেই ভোগান্তিই বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ছবি। আরবিআইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্রাহকরা এক লপ্তে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। কিন্তু এ দিন দেখা গেল ব্যাঙ্কের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা না থাকায় তারা রেশনিং ব্যবস্থার শরণাপন্ন হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের অনুরোধ করছে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা তুলতে, যাদের অবস্থা কিঞ্চিৎ ভালো তারা ১০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত দিতে পারছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাসপয়লার ছবিটা একটু দেখে নেওয়া যাক।

কলকাতা

সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সামনে লম্বা লাইন। টালা থেকে টালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ থেকে বরানগর সর্বত্র একই ছবি। যতই ‘ক্যাশলেস অর্থনীতির’ কথা বলা হোক, বাড়ির কাজের লোক, গাড়ির ড্রাইভার, শিশু আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আয়ার টাকা তো নগদেই দিতে হবে। তবে ব্যাঙ্কে গেলে হাতে টাকা পেলেও, বেশির ভাগ এটিএমই ‘ক্যাশলেস’। ব্যাঙ্কে টাকা থাকলেও সবই দু’হাজারের নোট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ‘পিঙ্ক’ নোটে কেনাও দায়। খুচরো টাকার বন্দোবস্ত বেশির ভাগ ব্যাঙ্কেই নেই। তাও মানুষ লাইন দিয়েছে নোট সংক্রান্ত ভালো খবরের আশায়।

দিল্লি

রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক আর হাতে গোনা টাকা ভর্তি এটিএমগুলির সামনে গ্রাহকদের লম্বা লাইন। কনট প্লেস হোক কী চাঁদনি চক, সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে। এটিএমের লাইনে দাঁড়ানো কল সেন্টার কর্মী নন্দিনী গুপ্ত বললেন, “আমার বাড়িওয়ালা, কাজের লোক, কাগজের ছেলেকে টাকা দিতে হবে, হাতে নগদ না থাকলে এগুলো কী করে সম্ভব।”

মুম্বই

দেশের বাণিজ্যনগরীতেও ভোগান্তির ছবির কোনো বদল নেই। বেশির ভাগ এটিএমই ‘ক্যাশলেস’ অবস্থায়। “সব কিছু স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। অনলাইনেও পেমেন্ট করা যাচ্ছে না কারণ মানুষের চাপের ফলে সব নেটওয়ার্ক বসে যাচ্ছে। কী হবে বুঝতে পারছি না”, ক্ষোভের সঙ্গে বললেন মুম্বইয়ের কান্দিভালি অঞ্চলের এক বাসিন্দা।

দক্ষিণ মুম্বইনিবাসী একজন বললেন, “২৪ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে পেলাম মাত্র ৪ হাজার। ব্যাঙ্ক থেকে বলা হয়েছে টাকা নেই। আমাকে আবার কাল নিজের লাক ট্রাই করতে হবে।”

অন্ধ্র-তেলঙ্গনা

বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া, হায়দরাবাদ— সর্বত্র ভোগান্তির ছবি। এখানকার ব্যাঙ্কগুলিতে এখনও পর্যন্ত নতুন ৫০০ টাকার নোট এসে পৌঁছোয়নি। বেশির ভাগ এটিএমেরই ঝাঁপ বন্ধ। ব্যাঙ্কগুলি থেকে আবার চার থেকে ছ’হাজারের বেশি টাকা তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে তেলঙ্গনা সরকারের তরফ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাঙ্কগুলির কাছে অনুরোধ করে জানানো হয়েছে তাঁরা যেন পেনশনপ্রার্থীদের জন্য আলাদা বিশেষ কাউন্টার তৈরি করে।

কেরল

কোচি, তিরুঅনন্তপুরম, কোড়িকোড়, কাসারগড়ে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। এটিএমের আড়াই হাজারের উর্ধসীমার জন্য ব্যাঙ্কগুলির সামনেই লাইন লাগিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে রাজ্যের অধিকাংশ ব্যাঙ্কেই টাকা রয়েছে। চাইলে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন গ্রাহকরা।

উত্তরপূর্ব ভারত

গুয়াহাটিতে ভোগান্তির ছবিটা না পালটালেও, ভিন্ন ছবি ছিল ত্রিপুরার আগরতলায়। এখানকার ব্যাঙ্ক আর এটিএমের সামনে বিশেষ লাইন লক্ষ্ করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের মতে মাস পয়লার ভোগান্তি এড়ানোর জন্য আগে থেকেই টাকা তুলে রেখেছেন সাধারণ মানুষ।        

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here