খবর অনলাইন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী, বৃহস্পতিবারের গণভোটে তাঁদের জয়ের পর গ্রেট ব্রিটেনের মাটিতে নতুন করে বর্ণবিদ্বেষ মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের ঘটনা ৫৭% বেড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এর নিন্দা করে বলেছেন, এই সব বিদ্বেষমূলক ঘটনা দেশ সমর্থন করে না।

কী ভাবে, কোথায়, কতটা বর্ণবিদ্বেষবাদী আচরণ দেখা যাচ্ছে সে ব্যাপারে অনেকেই তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, শেয়ার করছেন। টুইটারে পোস্টরেফারেসিজম হ্যাশট্যাগে সোমবার থেকে ২১০০০ লেখা পড়েছে।

বার্মিংহামের বাসিন্দা হেভেন ক্রলি লিখেছেন, “সকালে আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় দেখেছে কতগুলি তরুণ একটি মুসলিম মেয়েকে লক্ষ করে চিৎকার করছে, ‘বেরিয়ে যাও। আমরা তোমাদের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছি।” জিম ওয়াটারসন নামে এক জন লিখেছেন, “আমার মা একটি প্রাইমারি স্কুলে কাজ করেন। এক জন লাতভিয়ান মহিলা তাঁর বাচ্চাকে দিতে এসে চোখে জল নিয়ে বললেন, ওরা আমাদের আর এ দেশে চায় না।”

ওয়েলসের কারফিলি শহরে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা সাজিয়া আওয়ান লিখেছেন, “শুক্রবার তাঁর টুইটারে এক জন তাঁকে ব্যাগবাক্স গুটিয়ে নিয়ে চলে যেতে বলেছেন। অথচ আমার জন্ম কারফিলিতেই।”

‘এ দেশে আর পোলিশ ইঁদুর নয়’ – এই পোস্টার পড়েছে পূর্ব ইংল্যান্ডের হানটিংডন শহরে। এখানকার পোলিশ বাসিন্দাদের এই লেখা সম্বলিত কাগজও ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোলিশদের চিঠির বাক্সেও এই কাগজ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ পোলিশদের একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুরের তদন্ত শুরু করেছে,

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেছেন, “গত কয়েক দিন ধরে পোলিশ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে লেখা গ্রাফিতি আমার নজরে পড়েছে। যাঁরা জাতিগত সংখ্যালঘু, তাঁদের উদ্দেশে দেওয়া গালিগালাজও আমার কানে এসেছে। মনে রাখতে হবে, এই সব মানুষজন আমাদের দেশে এসে আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। আমরা এ ধরনের ঘৃণাব্যাঞ্জক অপরাধ বরদাস্ত করব না। যাঁরা এ ধরনের অপরাধ করবেন বা আক্রমণ চালাবেন তাঁদের চিহ্নিত করব।”

এ ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশকে সজাগ রাখার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য লন্ডনবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র সাদিক খান।

ছবি: সৌজন্যে বিবিসি নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here