খবর অনলাইন : একের পর এক রহস্যজনক খুনে সরকার যখন দিশাহারা, ঠিক তখনই আবার হত্যাকাণ্ড ঘটল বাংলাদেশে। এ বার খুন হলেন অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে (৬২)। শুক্রবার ভোরে পাবনার হেমায়তপুরে তিনি খুন হন। আশ্রমের কাজ শেষ করে তিনি যখন হাঁটতে বের হন তখন তাঁকে খুন করা হয়।

বান্দরবন, টাঙ্গাইল, পাবনা, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, যশোর, চট্টগ্রাম, নাটোর, ঝিনাইদহ – একের পর খুনে গোটা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যত কোনও হত্যাকাণ্ডেরই কিনারা হচ্ছে না বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

নিত্যরঞ্জনবাবুর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রমে কাজ করতেন তিনি। রোজ খুব ভোরে হাঁটতে বেরোতেন। এ দিনও যখন হাঁটতে বেরোন দুর্বৃত্তরা তাঁর উপর হামলা করে। তাঁকে নৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘাতকের এক কোপেই নিহত হন নিত্যবাবু। সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক যুগলকিশোর ঘোষ জানান, নিত্যবাবু নির্বিবাদী নিরীহ মানুষ ছিলেন। তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। যুগলকিশোরবাবু-সহ অনেকেরই ধারণা, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু মানুষদের নিশানা করে যে হত্যালীলা চলছে, নিত্যবাবু তারই শিকার হয়েছেন। পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর ঘটনাস্থল ঘুরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, যে ভাবে ঘটনা ঘটেছে, তার কোনও যোগসূত্র আমরা এখনও বলতে পারছি না। তদন্তেই বিষয়টি বেরিয়ে আসবে কারা খুন করেছে, কী ভাবে করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একের পর এক খুন হয়ে চলেছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত হচ্ছে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে কী জানতে পারা যাচ্ছে সে সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতে পারছেন না। একটা হত্যাকাণ্ডের পুলিশি তদন্ত সে ভাবে শুরু হওয়ার আগেই আর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটে যাচ্ছে। মানুষ ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়।

এ দিকে সারা দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী যে অভিযান শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে, তাতে অন্তত ৯০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here