খবর অনলাইন: ‘আকাশবাণী মৈত্রী’। কেবলমাত্র বাংলাদেশের শ্রোতাদের জন্য একটি নতুন বেতার সার্ভিস চালু করতে চলেছে আকাশবাণী। এর জন্য চুঁচুড়াতে একটি শক্তিশালী ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ও ত্রিপুরা-সহ গোটা পূর্ব ভারতে শোনা যাবে। এ ব্যাপারে প্রসার ভারতীর মুখ্য কার্যনির্বাহী অফিসার (সিইও) জহর সরকার জানিয়েছেন, তাঁদের এই সম্প্রচারের লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ানো। ভারতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ বেতার।

এই বেতার চ্যানেলে যেমন দেশ, উপ-মহাদেশ এবং বিশ্বের খবর নিয়ে প্রচারিত হবে সংবাদ বুলেটিন তেমনই চলতি ঘটনাবলি নিয়ে থাকবে বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো থাকবেই।

শুধুমাত্র বাংলাদেশি শ্রোতাদের জন্য আলাদা একটি বেতার চ্যানেল করার কথা ভাবা হল কেন? এই প্রশ্নের জবাবে জহরবাবু বলেন, “আমাদের দুই দেশের মধ্যে প্রচুর সাংস্কৃতিক মিল। অথচ কে কী করছে তা জানা যায় না। এই চ্যানেলে ভারতীয় শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদেরও ডাকব, যাতে একে অপরকে ভালো করে বুঝতে পারেন, মতের আদানপ্রদান করতে পারেন।” মৈত্রী চ্যানেলের অনুষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন এফ এম কেন্দ্রের মাধ্যমে রিলে করার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রসার ভারতীর সিইও জহর সরকার যা-ই বলুন, তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করে, বাংলাদেশের মানুষের একাংশের মধ্যে যে ভারত-বিরোধী মনোভাব আছে, ভারতের তরফে তা দূর করারই একটা প্রয়াস এই বেতার চ্যানেল।

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ কে এম নেছারউদ্দিন ভুঁইয়া বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এই বেতার চ্যানেল ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, অনুষ্ঠানসূচিতে বাংলাদেশ বেতারেরও বিষয়বস্তু থাকবে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তা ছাড়া, আকাশবাণী মৈত্রী বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হলে বাংলাদেশের বেতার-টিভি চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের ব্যাপারে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বাংলাদেশের বেসরকারি রেডিও চ্যানেলগুলোর আশঙ্কা, আকাশবাণী মৈত্রীর সম্প্রচারের ফলে তারা বাণিজ্যিক ভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে।

ছবি ও খবর: সৌজন্যে বিবিসি নিউজ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here