নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : রাজ্য জুড়ে সক্রিয় শিশুপাচার চক্র। এ বার নজরে জলপাইগুড়িও। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি শহরের ৪নং ঘুমটি এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে তদন্তে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। নর্থবেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে শহরেই দু’টি হোম রয়েছে, যার মধ্যে কেরানিপাড়ার বিমলা শিশুগৃহে উদ্ধার করা বা অনাথ শিশু ও নবজাতকদের রাখা হয়। এখান থেকে শিশুদের দত্তকও দেওয়া হয়।

অভিযোগ, ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এই হোম থেকে ১৭টি শিশুকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দত্তক দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিবারকে। জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির কাছ থেকে এর জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্য সুবোধ ভট্টাচার্য। আইনত দত্তক দিতে গেলে শিশু সুরক্ষা সমিতির অনুমতি আবশ্যক। এ ছাড়াও ওই হোমে থাকা ৬ শিশু নিখোঁজ বলেও অভিযোগ উঠেছে। সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে হোমে ওই শিশুদের খোঁজ পাননি শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্যরা।

এই দু’টি ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ ভাবে শিশু বিক্রির অভিযোগও উড়িয়ে দিচ্ছে না শিশু সুরক্ষা সমিতি। এই নিয়ে জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতি গত মে মাসে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানায়। অভিযোগ করা হয় শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরেও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এত দিন তদন্ত প্রক্রিয়া থমকেই ছিল। অবশেষে রাজ্য জুড়ে শিশুপাচার চক্রের অভিযোগ নিয়ে রাজ্য সরকার সক্রিয় হতেই তদন্তে গতি আসে।

বেশ কয়েক দিন ধরে খোঁজখবর নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। প্রায় তিন ঘন্টা সংস্থার নথিপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি সংস্থার সম্পাদিকা চন্দনা চক্রবর্তী ও অন্য কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসার অর্ঘ্য সরকার। যদিও সংস্থার সম্পাদিকা চন্দনা চক্রবর্তী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উলটে তিনি শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্য সুবোধ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শিশু সুরক্ষা সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তার রিপোর্ট পাওয়ার পরই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here