অস্ত্র কারখানার খোঁজ মিলল। উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও। সন্ধান পেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ ৷ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ৫ জন। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানা এলাকার কানখুলিতে আফতাব হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই কারখানার সন্ধান পায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ।  উদ্ধার হওয়া ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৯৫টি ওয়ান সাটার, ২টি ৯ এমএম পিস্তল, ৪টি সিঙ্গল ব্যারেল লং আর্মস। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ৫৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৯ কেজি বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম৷ পুলিশ বাড়িটিকে সিল করে দিয়েছে ৷

বেশ কয়েক মাস ধরেই জেলা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে একই ধরনের অস্ত্রের হদিশ পেয়েছিল পুলিশ ৷ তাতেই তাদের সন্দেহ হয় ৷ তদন্তকারীদের ধারণা হয় কোনও একটি জায়গা থেকেই তৈরি করা হচ্ছিল এই অস্ত্র৷ সেই জায়গাটি খুজে বার করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়। প্রায় দেড়মাস ধরে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্র কারখানার হদিশ মেলে৷ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে প্রায় ঘন্টা তিনেক তল্লাশি চালায় পুলিস ৷ostro-2

পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে আফতাব বিহারের বাসিন্দা ৷ গত বছর সে এই বাড়িটি কিনেছিল৷ বাড়ির ভিতরেই বানিয়েছিল অস্ত্রের কারখানা ৷ ধৃত চার জনের মধ্যে রয়েছে মহম্মদ আসলাম ও মহম্মদ এহেতমান। এরা অস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করত৷ পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে এই দু’জন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে এখানে অস্ত্র বানানো হত ৷ অস্ত্র পিছু তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত ছিল৷ অস্ত্র তৈরির জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনে আনা হত কাঁচামাল। ধৃতদের মধ্যে বাকি দুজন হল নিজাম ও সেলিম। এই দুজন অস্ত্র বিক্রিতে সাহা্য্য করত ৷ এদের কাজ ছিল অস্ত্র কিনতে ইচ্ছুকদের ডেকে আনা।

ostro-1 

পুলিশ সুত্রের খবর এই অস্ত্র মূলত কলকাতা, ও দুই চব্বিশ পরগনাতে বিক্রি করা হত ৷ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও এই অস্ত্র যাওয়ার সম্ভবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ ৷ তবে এদের সাথে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের এখনো পর্যন্ত কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি ৷

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here