কলকাতা : বৃহস্পতিবার ডানকুনি ও পালসিট টোল প্লাজায় সেনা নামাল কেন্দ্র। রাজ্যকে না জানিয়ে কেন্দ্র কী ভাবে এই কাজ করতে পারে সে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বরাষ্ট্রসচিব মলয়কুমার দে,  রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক সুরজিত কর পুরকায়স্থের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যামন্ত্রী। আলোচনায় ঠিক হয় বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। অপর দিকে, সেনা মোতায়েনের কারণ জানতে চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেবেন মুখ্যসচিব।

রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে রাজ্যের দু’টি টোল প্লাজায় সেনা মোতায়েন আর সেখান দিয়ে যাতায়াত করা গাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করেছেন, কী এমন ঘটনা ঘটল যে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। তিনি বলেন, এর অর্থ রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা। কারণ, রাজ্য সরকারকে কোনো কিছু না জানিয়ে সেনাদের এই ভাবে মোতায়েন করার একটাই অর্থ, রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা। তা ছাড়া জাতীয় বিপর্যয় বা বড়োসড়ো কোনো আগুন লাগার ঘটনা বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো কোনো কারণে সেনা নামানো হলে তা রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে বা সম্মতিক্রমে করা উচিত। সে সব কিছুই যখন নেই, তখন কী কারণে কেন্দ্র এই কাজ করল? এর পেছনে তাদের রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানিয়েছেন, বেছে বেছে কয়েকটি রাজ্যেই কেবল ৫০০ ও ১০০ টাকার নোটের জোগান কমানো হচ্ছে, এরই বা কারণ কী? প্রধানমন্ত্রী কি দেশের ভেতরে যুদ্ধ লাগাতে চাইছেন? তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনে ভয়াবহ কালো দিনের মুখোমুখি হতে চলেছে দেশ।

সেনাবাহিনীর তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, টোল প্লাজায় পণ্যবাহী গাড়ির তল্লাশি রুটিন ঘটনা। বছরে দু’বার করে এটা করা হয়। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কত গাড়ি মিলতে পারে তার হিসাব কষার জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি’ বলতে কী বোঝায় সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতিকরা।

ছবি: রাজীব বসু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here