নয়াদিল্লি: বিএসএফ-এর তেজবাহাদুর যাদব, সিআরপিএফ-এর জিৎ সিং-এর পর এ বার সেনাবাহিনীর যোগ্যপ্রতাপ সিং। তেজবাহাদুরের অভিযোগ ছিল খাবারের মান নিয়ে, জিৎ সিং-এর অভিযোগ সেনা জওয়ানদের সমতুল সুযোগসুবিধা না-পাওয়া নিয়ে। এ বার যোগ্যপ্রতাপের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন অফিসারদের কাছে হেনস্থা হওয়া নিয়ে। বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে যে অসন্তোষ রয়েছে তা আর একবার খোলসা হয়ে গেল।

দেহরাদুনে ৪২ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডে কর্মরত ল্যান্স নায়েক যোগ্যপ্রতাপের একটি নতুন ভিডিও বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়েছে। তাতে যোগ্যপ্রতাপ অভিযোগ করেছেন, সেনারা কী ধরনের সমস্যায় রয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানোয় তাঁর উপরতলার অফিসাররা তাঁকে হেনস্থা করছেন। ভিডিওয় তিনি বলেছেন, তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে গত জুনে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টকে জানানোর পর তাঁর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের জন্য তাঁর ব্রিগেড প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও) থেকে একটি চিঠি পায়। কিন্তু তাঁর অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান না করে তাঁকে হয়রানি করতে থাকে এবং এমন একটা তদন্ত শুরু করে যার ফলে তার কোর্ট মার্শাল হতে পারে। ওই ল্যান্স নায়েক জোর দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করা হয়নি বা উল্লেখ করা হয়নি।

যোগ্যপ্রতাপ বলেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটি আপ্লিকেশন দিয়েছিলাম। তাতে লিখেছিলাম যে সব সেনা সহায়ক হিসাবে কাজ করে, তাদের দিয়ে অফিসারের জুতো পালিশ করানো উচিত নয়।” গোটা ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত করার জন্য যখন পিএমও অফিস থেকে ব্রিগেডে চিঠি আসে, “ব্রিগেডিয়ার আমার উপর চাপ সৃষ্টি করেন… আমার উপর এমন অত্যাচার শুরু হয় যে আমি একটা চরম পথ নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সুইসাইড করব না বা কারও বিরুদ্ধে এমন কিছু করব না, যাতে আমার কাজের নামে বদনাম হয়।

এর পর তাঁর প্রশ্ন, “আমাকে কোর্ট মার্শালের জন্য ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমি কী অপরাধ করেছি?”

যোগ্যপ্রতাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here