আড়াই দশক আগের ঘটনার জেরে গ্রেফতার আরেক ‘বিনায়ক সেন’

0

খবর অনলাইন : অপরাধ, ১৯৯২ সালে ১ জুলাই ভিলাইয়ে এক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে জখম খনি শ্রমিকদের শুশ্রূষা করা। বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তখনই। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, পুলিশকে বাধা দিয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার আড়াই দশক পর গ্রেফতার হয়েছেন ডাঃ শৈবাল জানা। অভিযোগ, দল্লি রাজহরা শহিদ হাসপাতালের এই চিকিৎসক ঘটনার পর থেকে নাকি ‘গা ঢাকা’ দিয়ে ছিলেন। ডাঃ জানার স্ত্রী আলপনা জানা অভিযোগটি ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে তাঁরা দল্লির বাইরে খুব একটা কোথাও বেরোননি।

নামমাত্র খরচে ছত্তীসগঢ়ের খনি-শ্রমিক ও আদিবাসী মানুষদের চিকিৎসার জন্য ১৯৮৩-তে দল্লি রাজহরায় গড়ে তোলা হয় ১০ শয্যার শহিদ হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল গড়তে ছত্তীসগঢ় মাইনস শ্রমিক সঙ্ঘের নেতা শঙ্কর গুহনিয়োগী, ডাঃ বিনায়ক সেন ও ডাঃ আশিস কুণ্ডুর সঙ্গে হাত মেলান কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডাঃ শৈবাল জানা। পরে ডাঃ বিনায়ক সেন ও ডাঃ আশিস কুণ্ডু অন্যত্র এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়লেও ডাঃ জানা সেই থেকেই রয়ে গিয়েছেন এই হাসপাতালে। ডাঃ জানা এখন এই হাসপাতালের প্রধান। এই হাসপাতাল ৯০ শয্যার, রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি এবং আরও অনেক সুযোগসুবিধা। দল্লি রাজহরার ১০০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে যে বিপুল সংখ্যক গরিবগুর্বো লোকের বাস তাঁদের বড় ভরসা এই শহিদ হাসপাতাল।

ভিলাই থেকে ৭০ কিমি দূরে দল্লি রাজহরা, লৌহ আকরের খনি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানকার শ্রমিকরা বেশির ভাগই ঠিকাদারদের অধীন। ভিলাই ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরা যে সব সুযোগসুবিধা পান তা থেকে দল্লি রাজহরার শ্রমিকরা একেবারেই বঞ্চিত। ঠিকাদারেরা শ্রম আইন মানে না। প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের ছাঁটাই হতে হয়। প্রায়ই কাজের সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ঘটে। শ্রমিকরা কোনও আইনানুগ সুবিধা পায় না।  শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে শঙ্কর গুহনিয়োগীর নেতৃত্বে ছত্তীসগঢ় মুক্তি মোর্চা লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছিল। মোর্চার নেতৃত্বে হাজার হাজার শ্রমিক ১৯৯২ সালের ১ জুলাই ভিলাই পাওয়ার হাউস স্টেশন অবরোধ করে। পুলিশ অবরোধকারীদের উপর গুলি চালালে সরকারি হিসাবে ১৬ জন শ্রমিক মারা যান। অসংখ্য শ্রমিক আহত হন। সে দিন ঘটনাস্থলে জখমদের শুশ্রূষা করেছিলেন ডাঃ জানা।

সেই ২৪ বছর আগেকার ঘটনার জেরে ডাঃ জানা গ্রেফতার। এখন তিনি অসুস্থ অবস্থায় দুর্গ হাসপাতালে। ডাঃ জানার  গ্রেফতারি মনে করিয়ে দেয় আরেক চিকিৎসক বিনায়ক সেনের কথা। ঘটনাস্থল সেই ছত্তীসগঢ়। এবং অভিযোগ একই। শ্রমজীবী মানুষের সেবা করা। এই ঘটনা উস্কে দেয় ডাঃ বিনায়ক সেনের গ্রেফতারি ও যাবজ্জীবন শাস্তির ইতিহাস। ইতিমধ্যে ডাঃ সেন ও তাঁর স্ত্রী ইলিনা হাসপাতালে গিয়েছিলেন ডাঃ জানার সঙ্গে দেখা করতে। ২০১০ সালে বিনায়ক সেনের জন্য যে ভাবে পথে নেমেছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ঠিক সেই ভাবেই উঠে আসছে শৈবাল জানার মুক্তির দাবি। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন এবং গণসংগঠনগুলি।



খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন