সানি চক্রবর্তী :

আবেগঘন মর্যাদার লড়াই শেষ হল ম্যাড়মেড়ে নিষ্প্রাণ ড্রতে। আর মোলিনার দলকে জিততে দিলেন না বেলেনকোসো। হ্যাঁ, এ ভাবেই বলতে হচ্ছে। প্রায় হাফ ডজন গোলের সুযোগ একাই মিস করলেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। পোস্তিগা-হিুউমরা ছন্দে থাকলে বেলেনকোসো প্রথম একাদশে কতটা সুযোগ পেতেন তা নিয়েই সন্দেহ আছে। এ দিন পোস্তিগা-হিউমদের বিশ্রাম দেওয়ায় দলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরে। কিন্তু যে রকম গোলকানার মতো খেললেন বেলেনকোসো, তাতে নিদেন কলকাতা লিগের ম্যাচে কোনো বড়ো দলের জার্সি পরে নামলে একাধিক ময়দানি বিশেষণে ভূষিত হয়ে মাঠ ছাড়তে হত। আইএসএলের সৌজন্যে তা অন্তত হয়নি। তবে দলের নৈতিক জয়ের সুযোগটা হাতছাড়া করালেন তিনি। পিয়ারসনের শট অরিন্দম ফিস্ট করার পরে যে বলটা সোজা তাঁর পায়ে এসে পড়ল, সেখান থেকে ডিফেন্সের কোনো ফুটবলারও গোল করে যেতেন।

এ দিনের ম্যাচ সেরা হলেন প্রবীর দাস, যে তথ্য থেকেই পরিষ্কার পুনের দলকে বিপজ্জনক না হতে দিয়ে কতটা নিজের জাত চেনালেন এই বাঙালি উঠতি তারকা ফুটবলার। গোটা ম্যাচে কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের প্রাপ্তি এটাই। আবাসও ম্যাচের পর বলছিলেন, ভারতীয় ফুটবলারদের মান ও খেলায় আগ্রাসন ও উন্নতি ছাড়া আইএসএল তৃতীয় মরশুমেও রয়েছে সেই একই বিন্দুতে। কথাটা দার্শনিকের মতো শোনালেও আবাসের মতো খাঁটি ফুটবল মস্তিস্ক আসল কথাটাই বলে দিলেন কিন্তু। এক দিকে এটিকে শিবিরের বিরুদ্ধে নৈতিক জয়টাও হাসিল করে নিলেন তিনি। তার প্রশিক্ষণাধীন দল প্লে অফের ছাড়পত্র জোগাড় করতে না পারলেও, এটিকের বিরুদ্ধে অপরাজিত রইলেন স্প্যানিশ কোচ। শুধু আবাসই কেন, নৈতিক জয় এ দিন মোলিনার ঝুলিতেও এল। তিরি, লারা ছাড়া প্রায় পুরো নতুন দলকে খেলিয়েও শুধু পয়েন্টই তুলে নিলেন না, ঠিক সময়ে ঠিক পরিবর্তন করে আগাগোড়া ম্যাচে প্রাধান্য বজায় রাখার চেষ্টা করে গেলেন। কিছু ক্ষেত্রে টাচলাইনে তাঁকে দেখে অসহায়ই লেগেছে, মাঠের বাইরে ঠিক যতটা কাজ করার তার থেকে বেশিই হয়তো করছেন তিনি। তবে প্রথম মরশুমে বরাবর লড়তে হয়েছে আবাস-ছায়ার সঙ্গে। প্লে অফে উঠলেও তাঁর দলের খেলায় লিগের প্রথম দিকে যে ছন্দ ছিল, তা এখন নেই। দলের সেই পারফরম্যান্সটা তো আর কোচের হাতে নেই। এটিকে সমর্থকদের কথাটা হয়তো তেতো বড়ির মতো লাগবে, কিন্তু যে ভাবে কলকাতা শিবির খেলছে তাতে প্লে অফে বেশি আশা না করাই ভালো।

হোম ম্যাচে কলকাতার পারফরম্যান্স গত তিন মরশুমে সব থেকে খারাপ। ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। যার মধ্যে ৫ খানা ড্র। লিগের শেষ ৬টা ম্যাচে মাত্র ১ টা জয়, তা-ও শেষ লগ্নে পিয়ারসনের গোলে লিগের শেষে থাকা গোয়ার বিরুদ্ধে। পুণেতে আবাসের দলের কাছেই হেরেই শুরু হয়েছে এটিকের ব্যাডপ্যাচ। তার পরে গোয়া ছাড়া ৪ ম্যাচেই ড্র। টানা ড্রর গেরো থেকে বেরোতে না পেরেও অবশ্য চিন্তিত নন, বলছেন মোলিনা। তবে সেটার সত্যতা ঠিক কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। প্রথম একাদশের অনেককে বিশ্রাম দেওয়ায় প্লে অফে তরতাজা দলকে হাতে পাবেন মোলিনা। কোচের ট্যাকটিক্সের সঙ্গে নিজেদের স্কিল মিশিয়ে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন এটিকের ফুটবলাররা, নাকি একরাশ হতাশা উপহার দেন সেটাই দেখার। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here