সানি চক্রবর্তী :

প্রাথমিক পর্বের পরীক্ষায় একদল পাশ, অপর দল ব্যর্থ। এক দলের কাছে লড়াইটা শেষ ম্যাচে জিতে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো, অপর দলের কাছে সামনের বড়ো পরীক্ষার প্রস্ততির। এটিকে-পুনের এই আপাত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে শুধু এ ভাবে দেখলে কিন্তু বোকা বনতে হবে। কতটা আবেগ জড়িয়ে আছে এই ম্যাচে, কতটা মর্যাদার লড়াই হতে চলেছে এই ম্যাচ তা কিন্তু একটু চোখ মেললেই বোঝা যাবে।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তো এ হেন লড়াই সব থেকে উপাদেয়। আর গোটা প্রক্রিয়াটায় যিনি অনুঘটকের কাজ করছেন তিনি আন্তোনিও লোপেজ আবাস। বরাবরই অপ্রিয় কথা বলার জন্য অনেকের কাছেই চক্ষুশূল তিনি। কিন্তু কে জানত, এক বছর ধরে এই বোমাটা তুলে রেখেছিলেন মহারাজের মতে দলের এক সময়ের হৃৎপিণ্ড।

কলকাতার মাটিতে এক বছর পরে পা রেখে জানিয়ে দিলেন, “গত মরশুম শেষে ফেরার পরে কলকাতা শিবির থেকে ফোন পাওয়ার আশায় ছিলাম। সেই ফোনটা আর আসেনি।” কলকাতাকে মনে ঠিক কতটা জায়গা দিয়েছিলেন ও কল্লোলিনী তাঁর সঙ্গে ঠিক কতটা প্রতারণা করেছে, এটাই কি সবার কাছে জানিয়ে দিতে চাইলেন আবাস? সঙ্গে তাঁর সংযোজন,

“কলকাতার বিরুদ্ধে খেলতে নামাটা আমার কাছে খুব আবেগঘন ব্যাপার, তবে মাঠে বাঁশি বাজলে আর আবেগের কোনো স্থান নেই।” এ যেন ট্রেডমার্ক হাবাস। কখনও আবেগের লাভা উদ্‌গিরণ, আবার পাশাপাশি চরম পেশাদার। কলকাতার সাফল্যের পাশে পুনের কোচ হিসেবে তাঁর পরিসংখ্যানটা বড়ো ফ্যাকাসে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে যে নিজের সেরাটাই তিনি উপহার দেবেন তা পরিষ্কার। অন্য দিকে, মেজাজ ফুরফুরে লাগলেও হিউম-পোস্তিগাদের মাথায় নিশ্চয়ই বাজছে তাঁদের পুরোনো প্রশিক্ষকের কথা।

প্রথম মরশুম দায়িত্ব নিয়ে প্রাথমিক সাফল্য এনে দিয়েছেন। দলকে সেমিফাইনালের স্থান পাকা করে দেওয়ার পরে আর কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন মোলিনা সেটাই দেখার। মাঝে টানা ড্র-র পরে চাপ বাড়ছিল তাঁর উপরে। তবে প্লে অফে উঠে কিছুটা স্বস্তি। পুনের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ তিনি নামাবেন না সেটা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। মর্যাদার লড়াইয়ে জিতে মনস্তাত্ত্বিক জয়ের হাতছানিটা কিন্তু পরিকল্পনা পালটানোর জন্য যথেষ্ট। এ দিন মোলিনার কথা শুনে যদিও সে রকম মনে হল না। জানালেন, “জয়ের জন্যেই নামব। বেশি করে সুযোগ দিতে চাই যারা সে ভাবে খেলেনি তাদের। ভরসা রাখি তারাও দলের হয়ে সেরাটাই দেবে।” আসলে প্রথম একাদশকে বিশ্রাম ও তিন হলুদ কার্ড দেখা ফুটবলারকে সাসপেনশন থেকে বাঁচানোটাই তার প্রথম লক্ষ্য। জয়ের লক্ষ্যে মর্যাদার লড়াইয়ে মোলিনা সেই লক্ষ্যচূত হলেও হতে পারেন।

কড়া নাড়ছে আরও একটি পরিসংখ্যান। ঘরের মাঠে সব থেকে খারাপ মরশুমের। ৬ হোম ম্যাচে ৭ পয়েন্ট। ৪টিই যার মধ্যে ড্র। জয় ও হার ১টি করে। আবাসের প্রথম মরশুমে ৭ হোম ম্যাচে এসেছিল ১০ পয়েন্ট। তাই পুনেকে হারাতে পারলে এক ঢিলে অনেক পাখি মারার প্রলোভনটাও থাকছে মোলিনার সামনে। তাই রবীন্দ্র সরোবরে শুক্রবার নিছক ফুটবল এনটারটেনমেন্ট নয়, অপেক্ষা করছে আবেগঘন মর্যাদার লড়াই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here