সানি চক্রবর্তী :

কর্তাদের বরাবরের কুখ্যাত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, নাকি চরম অপেশাদারিত্ব ও গা-ছাড়া মনোভাব বলা মুশকিল। তবে নিটফলটা কিন্তু মোহনবাগান দল ও সমর্থকদের ভোগান্তি। গ্রিন ট্রাইবুনালের রায়ে ধাক্কা খেয়ে রবিবার সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের আই লিগের অভিযান শুরুর মঞ্চ থেকে বাদ পড়ে গেল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম। পরিবেশ আদালত শুক্রবার পরিষ্কার জানিয়ে দিল, প্রয়োজনীয় কাজ সময়মতো শেষ না করায় রবীন্দ্র সরোবরে ফ্লাডলাইটে ম্যাচ খেলার নির্দেশ দিচ্ছে না তারা। যার ফলে এ নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। পরে আই লিগের সিইও সুনন্দ ধরের অভয়বাণীতে নিস্তার পেল মোহনবাগান। দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে বারাসত স্টেডিয়াম থাকায় রবিবার সন্ধে ৭টায় চার্চিল ব্রাদার্সের সঙ্গে ম্যাচটি স্থানান্তরিত হয়ে গেল সেখানে।

গোটা ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছে, জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে একটু পিছনে। যুব ভারতী না পাওয়ায় রবীন্দ্র সরোবরকে ঢেলে সাজিয়ে সেখানে হোম ম্যাচ খেলার বন্দোবস্ত করে এটিকে। কিন্তু রাতে ফ্লাডলাইট জ্বললে লেকের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে পরিবেশ আদালতে দ্বারস্ত হন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। কালো কাপড় দিয়ে ফ্লাডলাইটের পিছন ঢেকে দেওয়া-সহ একাধিক শর্ত পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় পরিবেশ আদালতে। ফলে তিন মাসের জন্য রবীন্দ্র সরোবরে ম্যাচ করার ছাড়পত্র মেলে আদালত থেকে। আই লিগের জন্য এটিকে তথা সিইএসসির সঙ্গে কথা বলে রবীন্দ্র সরোবরকে হোম ম্যাচ করার স্থান হিসেবে ভাবনাতে আনে মোহনবাগান। পুলিশ, রাজ্য সরকার ও পরিবেশ আদালত — তিনটি স্থান থেকে সে ক্ষেত্রে ছাড়পত্র লাগত। মোহন কর্তারা প্রথম দু’টি শর্ত পূরণ করলেও তৃতীয়টিকে সেভাবে পাত্তা দেননি।

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত পরিবেশ আদালতে মামলা করেন ম্যাচের স্থগিতাদেশ চেয়ে। আদালত শুক্রবার সকালে স্থগিতাদেশ দেয়। মোহন-কর্তারা ঘটনাটা জেনে দুপুরে ম্যাচ করানোর জন্য আপিল করেন, টিকিট বিলি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে গোটাটা মিটমাট করার রাস্তায় যান তাঁরা। কিন্তু পরিবেশ আদালত কোনো ছাড় দেয়নি। অগত্যা, ম্যাচের স্থান বদল। এ দিন সকালে সঞ্জয় সেন যখন তাঁর দল নিয়ে সরোবরে অনুশীলন করেন, তখনও ঘুণাক্ষরেও জানা ছিল না, এ দিনের খাটনির কোনো লাভই প্রথম ম্যাচে পাবে না তাঁর দল। আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে কর্তারা কার্যত আকাশ থেকে পড়েন। সচিব অঞ্জন মিত্র বলেন, “ম্যাচের স্থান পরিবর্তন করতে হবে ভাবিনি।” দুপুর পর্যন্ত যদিও সরোবরে উপস্থিত অন্য আধা কর্তাদের সুর ছিল ভিন্ন।

এটিকের গোটা বিষয়ে যে কোনো গাফিলতি নেই, তাও পরিষ্কার। তারা প্রায় ১০-১২ দিন আগে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাজের দায়িত্ব মোহন-কর্তাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত জানান, “সমস্ত ব্যাপারটা নিয়ে বাগান-কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে তাঁরা গুরুত্বই দেননি বিষয়টিকে।” গোটা পরিস্থিতির মাঝে সময় একই থাকায় ও হাতে বিকল্প মাঠ থাকায় জরিমানার হাত থেকে রক্ষা পেল মোহনবাগান। তবে নিজেদের ঘরের মাঠে টানা অনুশীলনের পরে রবীন্দ্র সরোবরের ঘাসের মাঠের সঙ্গে পরিচিত হতে ফের এক দফা অনুশীলন। এর পরেও কর্তাদের ব্যর্থতায় জেজে-কাটসুমিদের অভিযান শুরু করতে হবে বারাসতের অ্যাস্ট্রোটার্ফে। এ ছাড়া ম্যাচের স্থান পরিবর্তন হওয়ায় টিকিটের ভাগ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। পরে যদিও তা মিটেছে। এখন দেখার, কত তাড়াতাড়ি সমস্ত বিষয় মিটিয়ে ফেলতে পারেন বাগানের কর্তারা। না হলে পরের ম্যাচগুলোতেও একই সমস্যার সামনে পড়তে হতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here