ঋদি হক: ঢাকা

বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার পাশাপাশি মাত্র পঞ্চাশ বছরে ঈর্ষনীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ (Bangladesh) এখন মাথা উঁচু করা অর্থনীতির দেশ। বাঙালি জাতি এই অহংকারের জায়গাটি তৈরি করতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা পেয়েছে যে মানুষটির কাছে, তাঁর নাম বঙ্গবন্ধু (Bangabandhu) শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman)। শুক্রবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে (Ishwardi) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ১০০ জন্মোৎসব’ (100th birth anniversary) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী (State Minister of Shipping) খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (Khalid Mahmud Chowdhury) ।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁদের জাতির পিতা। তিনি শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার অর্জনে জীবনভর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার পরেও থেমে যাননি। একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তাঁর ভাবনায় ছিল, দেশের মানুষ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে স্বাধীন ভাবে বাঁচবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে। অবশেষে তিনি তাঁদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। 

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর কথায়, “দেশের মানুষকে কতটা ভালোবাসতেন তা নিজের এবং পরিবারের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধু। সেই বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করবার দুঃসাহস আমাদের নেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তাঁর প্রতি আমাদের সম্মান জানাতে হবে। আজ তাঁরই কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছি।”

ওই অনুষ্ঠানে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, তাঁরা যাতে স্বাধীনতার স্বাদ না পান, সেই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। আর সেই জঘন্য হত্যাকে জায়েজ করার জন্য জিয়া, এরশাদ, খালেদা যা যা করার দরকার তা করেছে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের পুনর্বাসিত করেই ক্ষান্ত হয়নি, দেশপ্রমিক সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিনা বিচারে হত্যা করেছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্যাটেলাইট, সাবমেরিন, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কানেক্টিভিটি-সহ একটার পর একটা মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “’৭৫-এর ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু অমর, তাঁকে হত্যা করা যায়নি। এক মুজিবের রক্ত থেকে লক্ষ নয়, বাঙলার বুকে কোটি কোটি মুজিব জন্ম নিয়েছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছি। তাঁর নেতৃত্বে আমাদের দেশ উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পরিণত হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আব্দুল মজিদ। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান লাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, কবি সুজন বড়ুয়া এবং কবি আসলাম সানী।

দু’ দিনব্যাপী এই জন্মোৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলা, আলোচনাসভা, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের আর নেই

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন