রেঙ্গুন/শ্যামলাপুর : ১ লক্ষ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম মাত্র দু’ সপ্তাহেরও কম সময়ে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে উঠেছে। বুধবার এক জন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান এই বিষয়ে মায়ানমারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বলেছেন, গোটা মায়ানমারে  জাতিগত বিশুদ্ধতা আনার চেষ্টা এই বিশাল এলাকায় একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে ৮৭,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম, জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জ

মায়ানমারের নেতা আং সাং সু কি রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে জাতিগত সংঘর্ষের জন্য সন্ত্রাসবাদীদের দায়ী করেছেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বহিষ্কারের বিষয়টি এক বারও উল্লেখ করেননি।

ইন্দোনেশিয়া-সহ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর চাপে পড়েছেন সু কি। কারণ এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার জাকার্তায় ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশ করে। তাঁদের দাবি, বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মায়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান তাঁরা।

মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা একটি বিরল চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহাসচিব এন্টোনিও গিটার্স। তিনি বলেন,  রাখাইনের এই গণ্ডগোল মানবিকতার ক্ষেত্রে চরম সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

রয়টারের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের কক্সবাজারের কাছে সীমান্তবর্তী শ্যামলপুরে রোহিঙ্গারা নৌকোয় করে এসে উঠছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১২ দিনে কক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৬ হাজার। অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার।

বুধবার রোহিঙ্গাদের নতুন দলটি জানিয়েছে, বুধবার ভোরের দিকে তিনটি নৌকাডুবিতে প্রায় ১০০ জন ডুবে যান। উপকূলরক্ষীবাহিনীর কমান্ডার এম এস কবির জানান, ৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে ৩ জন শিশু।

এ দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মায়ানমার সফরে সু কি-র সঙ্গে দেখা করেন। রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত বিদ্বেষের ফলে তাঁদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতি মায়ানমারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মোদী। প্রসঙ্গত রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিয়ে ভারতের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু  ভারতে প্রবেশ করেছে। তাঁদের দেশে ফেরানোর কথা ভাবছে ভারত।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন