শেখ মুজিবের হত্যার দিনে আজ বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস

0

ঋদি হক: ঢাকা

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করছে। দিবসটি ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে সরকার-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে।

এ ছাড়া ভাগ্নে শেখ মণিকে সস্ত্রীক হত্যা করা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর আরও অনেক স্বজনকে সে দিন হত্যা করে ঘাতকরা। সৌভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ছোটো বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। 

বঙ্গবন্ধু-সহ সে দিনের হত্যালীলায় নিহতদের কয়েক জন।

শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মসজিদে প্রার্থনা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশের সকল মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-সহ সারা দেশে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-সহ ১৫ আগস্টের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং একই  সঙ্গে সারা দেশ ও বিশ্বের শান্তি কামনা করে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

মুজিববর্ষ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০ সালকে সরকার মুজিববর্ষ ঘোষণা করে। ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করার প্রস্তুতি চলছিল প্যারেড গ্রাউন্ডে। দৃষ্টি নন্দনরূপে সেজে উঠেছিল প্যারেড গ্রাউন্ড। পাশের পুরাতন বিমানবন্দরেই স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু। জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসাবে থাকার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের অনেকেরই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অকস্মাৎ করোনা মহামারির কারণে সব আয়োজন থেমে যায়। করোনার বিস্তার রোধে সেই অনুষ্ঠান-সহ সকল প্রকার অনুষ্ঠান স্থগিত করে সরকার। 

চিনারা চায়নি বাংলাদেশের স্বাধীনতা

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যখন রাতের আঁধারে ট্যাংক ও কামান নামিয়ে ঢাকায় নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট আর ধর্ষণে মেতে ওঠে তখন হানাদারবাহিনীর কবল থেকে নিজেকে রক্ষার পথ খুঁজতে শুরু করে সাধারণ মানুষ। ভারত তখন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে থাকা তাদের সব ক’টি সীমান্তপথ খুলে দেয়। জীবন বাঁচাতে সব ফেলে কাতারে কাতারে মানুষ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এমন মর্মস্পর্শী কথাই শোনালেন, গবেষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং বর্তমানে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) জাফর ওয়াজেদ।

ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু।

জাফর ওয়াজেদ বললেন, চিন কখনোই চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। বাঙালি মাথা উঁচু দাঁড়াক। বাঙালির সেই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তারা কোটি কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্যের জোগান দিয়েছে। বাংলাদেশি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করতে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে ভারত। রণাঙ্গণে ভারতের সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন