বাংলাদেশিকে উদ্ধার।
আশ্রয়শিবিরে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা।

ঋদি হক: ঢাকা

সাগরের নোনাজলে জীবন উৎসর্গ করেই স্বপ্নের ইউরোপ-যাত্রায় নেমেছিলেন তাঁরা। লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার উপকূল থেকে অভিবাসীদের এই যাত্রায় ইউরোপ প্রবেশের অন্যতম গেটওয়ে ইতালি। দেশটিতে প্রবেশের জন্য পাড়ি দিতে হয় ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea)। অভিবাসীদের বহন করা নৌকাগুলো সরাসরি লিবিয়া থেকে না গিয়ে প্রায়শই তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। এ জন্য তাদের অবৈধ পথ বেছে নিতে হয়।

উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার নৌকাডুবির ঘটনার পর তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড (Tunisian coast-guard) ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ২৬৪ জন বাংলাদেশিকে (Bangladeshi) উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম, International Organization for Migration, IOM) জানিয়েছে, এ সময় তিন মিশরীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়।

রেড ক্রিসেন্টের হাতে

অভিবাসন-প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে এসে রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরবর্তী ঠিকানা ডিটেনশন সেন্টার। যাঁরা বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেবে আইওএম। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগত তিন মাসে তিউনিসিয়ার জলসীমা থেকে ৪৮৫ জন ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। 

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি ও মিশরীয়রা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে রওনা হয়েছিলেন। ভূমধ্যসাগরে তাঁদের ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ডকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় অবৈধ ভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যে নৌকায় তাঁরা সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন, তা সাগরে ভেঙে যায়। তাঁরা সাগরে ভাসছিলেন। সে অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্ট তিউনিসিয়ায় আশ্রয়শিবির তৈরি করেছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে যত জন থাকতে পারেন, তার চেয়ে বেশি মানুষ সেখানে অবস্থান করছেন। এর আগে ১০ জুন ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। তাঁরাও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় গত ১৮ মে ৩৬ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে তিউনিসিয়ায় ৭০৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

লিবিয়ায় রয়েছেন ৮৬ বাংলাদেশি

এ ছাড়া গত মাসে লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন দমন বিভাগের (ডিসিআইএম) কর্মকর্তারা আলজিরিয়ার সীমান্তবর্তী মরুএলাকা দারাসে অপহরণকারীদের কবল থেকে ৮৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। তাঁরা বেনগাজি হয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েছিলেন। তাঁরা লিবিয়ায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর, UNHCR) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের ১৯ হাজার ৬১ জন ইতালিতে পৌঁছেছেন। এই তালিকার শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের ২ হাজার ৬০৮ জন ইউরোপে পৌঁছেছেন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অবৈধ ভাবে ইউরোপ যাত্রার সময় অন্তত ৮১০ জন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৮১৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। মানবপাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশি গত মে মাসে আইওএমের সহায়তায় দেশে ফেরেন। ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সংস্থাটির সহায়তায় ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার ৯০০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতের অর্থায়নে বাংলাদেশের রেল প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতীয় হাই কমিশনার

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন