বাংলাদেশ-ভারত রেলপথে পণ্যপরিবহণের নতুন দিগন্ত

    আরও পড়ুন

    ঋদি হক, ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেলপথে পণ্যপরিবহণ যথেষ্ট গতি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে রেলপথে পণ্যপরিবহণের মাধ্যমে ৫৫২ কোটি ৬৬ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪১৬ টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

    সময়-সাশ্রয়ী নির্ভরযোগ্য পন্যপরিবহণ মাধ্যম রেলপথ। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পন্যপরিবহণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থাৎ বাংলাদেশ-ভারত পণ্যপরিবহণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    Loading videos...

    বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের মতে, বাংলাদেশের রেলের দুর্গতি কাটিয়ে গতিশীল রেলপথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রেলমন্ত্রকের সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ জুলাই ঈদযাত্রায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রেলপথ অনেকটাই কমে আসছিল। অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছিল। শেখ হাসিনা আলাদা রেলমন্ত্রক সৃষ্টির পর নব উদ্যোগে বন্ধ এবং হারিয়ে যাওয়া রেলপথ ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশন ও রেলপথ চালু করা হয়েছে।

    - Advertisement -

    রেলমন্ত্রী বলেন, সভ্যতার প্রতীক হচ্ছে কানেক্টিভিটি। শেখ হাসিনার হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধ হয়ে যাওয়া একের পর এক রেলপথ উন্মুক্ত হতে থাকে। তাতে করে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। ৬৫ বছর পর চালু হয়েছে চিলাহাটি-হলবাড়ি রেলপথ।

    তিনি আরও বলেন, খরস্রোতা পদ্মার বুকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি এখন বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, পাশ্ববর্তী দেশের মাথাপিছু আয়ের থেকেও বাংলাদেশে অর্থনীতি গতিশীল। এই বিষয়টি সেদেশের বিভিন্ন মিডিয়ার আলোচনা হয়েছে এবং দেশটির বিদেশ সচিবও তাঁর বক্তব্যে এ কথা স্বীকার করেছেন।

    ঢাকা-কলকাতা মাত্র ৫ ঘণ্টায়

    পদ্মা সেতু দিয়ে রেলপথ হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর দক্ষিণ তীর থেকে যশোর এবং মংলার সঙ্গে কানেক্ট হবে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচলরত যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন তখন ঢাকা থেকে সাড়ে ৫ ঘন্টায় কলকাতা যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    রেল ভবন সূত্রে খবর, বর্তমান লকডাউন অবস্থায় গণপরিবহণ হিসাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের সকল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ। খাদ্য, নিত্যপণ্য এবং জ্বালানি পরিবহণের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রফতানিপণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে প্রতিদিন ২টি করে ৪টি কনটেনার ট্রেন চলাচল করছে। রেলমন্ত্রকের মন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সমন্বিত উদ্যোগে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ও পার্সেল ট্রেন চলাচল করছে।

    ভারত থেকে দৈনিক ৫টি পণ্য ট্রেন

    ভারত থেকে দৈনিক ৪ থেকে ৫টি মালবাহী ট্রেন বেনাপোল, দর্শনা, রহনপুর ও বিরল ইন্টারচেঞ্জ রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেশনে চলাচল করছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে। এ সব ট্রেন পরিচালনার জন্য সমস্ত অপারেটিং স্টেশনের কার্যক্রম চালু রেখেছে রেলওয়ে।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহৎ লোকবল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সফলতভাবে কর্মকাণ্ডের পরিচালনা করে আসছে। গত ৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত রেলপথে পণ্যপরিবহণের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫২৬ কোটি ৬৬৬ লক্ষ ৪১৬ টাকা আয় করেছে।

    উল্লেখ্য ২০২০-২১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে গত বছরের তুলনায় ক্রস বর্ডার ট্রাফিকে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় করছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৯১০১০টি টিইস কনটেনারে ৭০৮৫৫৮ মেট্রিক টন পণ্যপরিবহণ করেছে। তেল পরিবহণ এবং অভ্যন্তরীণ পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে গত একমাসে ১৯১৪ মেট্রিক টন আম পরিবহণ করা হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে রেলওয়ের অপারেটিং কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনা অতিমারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

    আরও পড়তে পারেন: ভারতীয় পড়ুয়াদের নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপ ডাউনলোড করতে চাপ, ক্ষতিগ্রস্ত অনলাইন পড়াশোনা

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর