rohingya problem in bangladesh

নিউ ইয়র্ক: বছর পাঁচেক ধরেই সমস্যা চলছিল। কিন্তু এ বারের মতো এত বড়ো আকার আগে কখনও ধারণ করেনি। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ফলে গত দশ দিনে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ৮৭,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম। এমনই দাবি করল রাষ্ট্রপুঞ্জ।

গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধেছিল রোহিঙ্গা জঙ্গিদের। কিন্তু অভিযোগ জঙ্গি নিকেশের নামে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। বৌদ্ধপ্রধান এই দেশে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে অত্যাচারে শামিল হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষও।

প্রথম দিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম লাগোয়া অঞ্চলে একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির রয়েছে, সব এখন ভর্তি। রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিলে জনসংখ্যার ওপর চাপ পড়বে, এই যুক্তি দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এখন সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে তারা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটকাচ্ছে না বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। ৮৭,০০০ শরণার্থী আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, এখনও অন্তত কুড়ি হাজার জন মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে অপেক্ষা করছে।

সীমান্ত পেরোনোর সময়ে নাফ নদীতে নৌকাডুবিতে অনেক মানুষের মৃত্যুও হয়েছে বলে জানাচ্ছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

২০১২-তে প্রথম বার জাতিবিদ্বেষে জ্বলে উঠেছিল রাখাইন প্রদেশ। তখন থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার শুরু করে মায়ানমার। ২৫ আগস্ট নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাখাইন। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলায় পনেরো জন পুলিশকর্মী নিহত হন। তার বদলায় ফের সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার শুরু।

মায়ানমারের সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষে চারশো জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭০ জনই রোহিঙ্গা মুসলিম।

প্রসঙ্গত, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম। তারা ‘রাষ্ট্রহীন’। মায়ানমারের মতে, তারা বাংলাদেশ থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গেও রোহিঙ্গাদের কোনো ‘যোগ’ নেই। আদতে তারা রাখাইন প্রদেশেরই আদিবাসী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here