ঋদি হক: ঢাকা

থানা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) আমলাতান্ত্রিক শাসকের ভূমিকা পালন করছেন, এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন বাংলাদেশের উপজেলাসমূহের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন জনপ্রতিনিধিরা।

কেন এমন অভিযোগ? এর উত্তরে জনপ্রতিনিধিদের সাফ জবাব, থানা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা পর্যায়ে রীতিমতো শাসকের ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এই আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা জনপ্রতিনিধিদের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। সাংবাদিক বৈঠক করে ইউএনওদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উত্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন’।

‘সাংবিধানিক নির্দেশনা ও আইনানুযায়ী প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক একাংশ নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ কর্তৃত্বহীন, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ তৃণমূলে জবাবদিহি শাসন বিঘ্নিত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন এবং আইন সম্পাদক রীনা পারভীন-সহ বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা।

জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ

জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের আলাদা করে সামন্তবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছেন। কর্মকর্তাদের আইনপরিপন্থী আচরণ ও কাজের কারণে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা চলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় সাংবাদিক বৈঠকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার। তাতে বলা হয়, আইনে উপজেলাকে প্রশাসনিক একাংশ ঘোষণা করা হয়েছে, যার প্রশাসনিক কাঠামো নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ আইনের তৃতীয় তফসিলে ১২টি মন্ত্রকের উপজেলাধীন ১৭টি বিভাগকে উপজেলা পরিষদের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের কার্যাবলি-সহ হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু আইনকে বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রক ও অধিদফতর বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করে থাকে, যার মাধ্যমে উপজেলার সব বিভাগের কার্যাবলি নিষ্পত্তির জন্য গঠিত প্রায় শতভাগ কমিটিতে ইউএনওকে সভাপতি করা হয়েছে। এই ১৭টি বিভাগের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাও ইউএনও। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়া সব কাজ কমিটি প্রধানের ক্ষমতাবলে ইউএনও নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিক বৈঠকে আরও বলা হয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে কাজ সম্পাদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একাধিক বার পরিপত্র ও আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে এই নির্দেশনা বা আদেশের কোনো প্রতিপালন হচ্ছে না। এ কারণে উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলেও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা (ইউএনও) সব কিছু উপেক্ষা করে উপজেলায় শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণকে পাশ কাটিয়ে জনপ্রতিনিধিবিহীন জনপ্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংবিধান, আইন ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এগুলোর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে বিপদে পড়েন। যে কোনো ইস্যু সৃষ্টি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাহী তদন্তের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। এ ভাবে পরিকল্পিত ছকে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এর পর উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবকে লিখিত ভাবে এ সব বিষয় জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ১৫ জন সচিবের কাছে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিচার চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সব কিছুতে তাচ্ছিল্য দেখাচ্ছেন।

এ ছাড়া সাংবাদিক বেঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবিও জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে,হ স্তান্তরিত ১৭টি বিভাগের কার্যক্রম উপজেলা পরিষদের কর্তৃত্বে পরিচালিত হওয়ার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রকের জারি করা পরিপত্রগুলো অবিলম্বে সংশোধন, নির্বাচিত পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৭টি বিভাগের জন্য ভাইস চেয়ারম্যানদের সভাপতিত্বে ১৭টি কমিটির কার্যকর করা, উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে ১৭টি বিভাগের কার্যাবলি সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের তরফে প্রজ্ঞাপন জারি করা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: ২০২০: যাঁদের হারিয়েছে বাংলাদেশ

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন