লকডাউনের মধ্যেই আজ রবিবার খুলছে রফতানিমুখী শিল্পকারখানা, ঢাকামুখো মানুষের ঢল

0
ঢাকামুখো মানুষের ঢল।
ফেরিঘাটে ভিড়।

ঋদি হক: ঢাকা

করোনার লাগামহীন সংক্রমণ কমাতে ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের পথে হাঁটে বাংলাদেশ। কিন্তু ১৪ দিন পর ঈদ থাকায় সাত দিনের জন্য শিথিল করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা লকডাউন শুরু হয়্। এরই মধ্যে সাত দিনের মাথায় শুক্রবার রফতানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে সরকার।

Shyamsundar

ঘোষণার পর শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন উপায়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করে মানুষ।

লকডাউনে সকল প্রকারের গণপরিবহণ বন্ধ। এই অবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণপুশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ফেরিতে গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছেন। বিকল্প ব্যবস্থায় সীমাহীন কষ্ট এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুণেই কর্মস্থলে ফিরছেন তাঁরা।

ঢাকায় আগত অধিকাংশ মানুষের গন্তব্য গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, নরসিংদী, টঙ্গী, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর, মদনপুর ইত্যাদি শিল্প-এলাকা। এ যেন লাখো মানুষের কাফেলা। এ অবস্থায় করোনার সংক্রমণ ফের বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

খুশি শিল্পমালিকরা

কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রবিবার থেকে শিল্পকারখানা খোলার বার্তায় খুশি শিল্পমালিকরা। তাঁদের সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে সঠিক সময়ে রফতানির অর্ডার অনুযায়ী পণ্য পাঠানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত হল। শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ায় সংকট কাটানো যাবে।

নারায়ণগঞ্জের প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির বৈদেশিক বাণিজ্য আধিকারিক ড. সালাউদ্দিন বলেন, উত্তরপূর্ব ভারতের ত্রিপুরা ও অসমে সিমেন্ট পাঠাতে প্রায় ১০ দিন ধরে তাঁরা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকায় তা পাঠানো যাচ্ছে না। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তাঁদের স্বস্তি ফিরেছে।

কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ  

অপর দিকে শনিবার উত্তর জনপদ রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় থেকে আসা হাজারো শ্রমিকের ঢল নামে রংপুরের মডার্ন মোড়ে। কিন্তু এত মানুষের জন্য নেই কোনো পরিবহন ব্যবস্থা। কেউ কেউ যাচ্ছেন ট্রাক বা অন্য কোনো মাধ্যমে। তবে তাতে আর কত জন। কেউ জলপথে রওনা দিয়েছেন।

কর্মস্থলে ফিরতে গাড়ির দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ  দেখান শ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বাধা দিলে ফুঁসে ওঠেন তাঁরা। প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেন। প্রশাসনের অনুরোধের পরেও অবরোধ ছাড়েননি তাঁরা। অবরোধে রংপুর-দিনাজপুর ও ঢাকা মহাসড়কের তিন দিকে শত শত যান আটকা পড়ে। তিন ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে বিকাল ৩টা নাগাদ পুলিশ এসে আলোচনা করার পর কয়েকটি বিআরটিসি বাস রংপুর মডার্ন মোড় থেকে শ্রমিকদেরর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। যানবাহন চলাচল বন্ধের পরও বিআরটিসি বাসে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, জরুরি পরিষেবার আওতায় থাকা শ্রমিকদের মৌখিক ভাবে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে কর্মস্থলে যোগ দিতে কুড়িগ্রামের চিলমারি দিয়ে নদীপথে শত শত মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে নিয়মিত পণ্যট্রেন চলাচল শুরু পয়লা আগস্ট থেকে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন