ঢাকায় শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু-বাপু পক্ষকালব্যাপী ডিজিটাল প্রদর্শনী

0
বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী।
বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

ঋদি হক: ঢাকা

ঢাকায় শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু-বাপু পক্ষকালব্যাপী ডিজিটাল প্রদর্শনী। চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মুজিববর্ষ ও মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিশেষভাবে প্রদর্শনীটি তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী দুই দেশের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও উত্তরাধিকারের অনন্য একটি বিষয়কে উপস্থাপন করছে।  

১১ অক্টোবরের পর চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং কলকাতায়ও বঙ্গবন্ধু-বাপু এটি প্রদর্শিত হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

Shyamsundar

দুই দেশের দুই মহাত্মা   

দুই কিংবদন্তির একজন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, অপর জন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হিমালয়ের মতো দুই ব্যক্তি।  ১৯৪৭ সালের আগস্টে ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান কলকতায় মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  দুই নেতার সাক্ষাতের দিনটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত মিটিং ওয়ালে প্রদর্শিত ছবিটি সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র ছবি যেখানে বঙ্গবন্ধু-বাপু উভয়েই এক ফ্রেমে রয়েছেন। মহান দুই নেতাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে এই  ডিজিটাল প্রদর্শনীর আয়োজন।

ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন, সংস্কৃতি  মন্ত্রক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী চলবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কুখ্যাত গণহত্যা। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল তারিখে অবিভক্ত ভারতের পঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে ইংরেজ সেনানায়ক ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ এবং ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।  স্বাগত বক্তৃতা  দেন শিল্পকল্প একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের সচিব আবুল মনসুর।

মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২৭ মার্চ ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল জাদুঘরের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু কোভিডের কারণে প্রদর্শনীটি সাধারণের প্রদর্শনের জন্য বন্ধ ছিলো। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পীঠস্থান শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনী প্রতি দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলের জন্য উন্মুক্ত।

২২টি তথ্যদেওয়াল এবং শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্ত

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেওয়াল এবং শতাধিক ডিজিটাল মুহূর্তের সমন্বয়ে তৈরি। প্রদর্শনী শুরু হয় পরিচিত প্রাচীর দিয়ে যা প্রদর্শনীর বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে এবং প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে বিশ্বের চোখে এই দুই মহান নেতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।

পরবর্তী দু’টি দেওয়াল দুই নেতার জীবনের একটি বিস্তৃত পটভূমি প্রদর্শন করে। একটি হল গ্রাফিক টাইম মেশিন যা ঐতিহাসিক ছবিগুলিকে একটি সময়রেখার সঙ্গে সাজানো হয়েছে যা দর্শনার্থীদের সময় এবং জীবনকাল বোঝার জন্য একটি অনন্য ইন্টারফেস প্রদান করে। পরবর্তী অংশটি তাঁদের তারুণ্যের ঘটনাগুলি বর্ণনা করে যে সময়ে তাদের নৈতিক চরিত্র গঠিত হয়েছিল।

পরবর্তী দেওয়ালটি তাঁদের জীবনের তিনটি বিখ্যাত আন্দোলনকে প্রদর্শন করেছে। একটি হল লবণ সত্যাগ্রহ, যেটিকে টাইম ম্যাগাজিন আধুনিক ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে বিবেচনা করে এবং অন্যটি ৭ মার্চের ভাষণ, যেটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত হয়েছে।

ডিজিটাল প্রদর্শনীর একটি মুহূর্ত।

মানুষের দুর্দশা, যন্ত্রণা এবং অবিচারের দৃশ্য জালিয়ানওয়ালাবাগ এবং গণহত্যা সুড়ঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৭১ সালের প্রাচীরে সেই বছরের ঘটনাগুলি পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়েছে। শক্তি ব্যবহারের ন্যায্যতা এবং মুক্তিবাহিনী কর্তৃক প্রাপ্ত সাহায্য মানবতার নৈতিকভিত্তির দু’টি শেষ প্রান্ত।

ব্যস্ততার ত্রিভুজটি দুর্দশা এবং যন্ত্রণা থেকে চোখকে অতি প্রয়োজনীয় স্বস্তি প্রদান করে, যেখানে ৩৬০ ডিগ্রি অবস্থানগুলি অনুভব করা যায়। একটি রোবোটিক স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে এবং দুই নেতার প্রিয় সংগীতও রাখা  হয়েছে।

বঙ্গমাতাকে উদযাপনকারী প্রাচীরটি এমন দু’ জন নারীকে দেখায় যাঁরা তাঁদের সঙ্গীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সঠিক সময়ে তাদের কার্যকর পরামর্শ দিয়েছিলেন। উভয়েই শ্রদ্ধেয় ছিলেন এবং সর্বদা তাঁদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

দুই মহান নেতা তাঁদের দেশ ও জনগণের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পরবর্তী অংশে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রদর্শনীটির শেষ অংশে বর্তমান অতিমারি বিষয়ে একটি সামাজিক বার্তা প্রদান করে, দর্শনার্থীদের একটি ইন্টারেক্টিভ দেওয়ালে তারা যে তথ্য শিখেছে তা সংযুক্ত করতে দেয়। বিদায়ী অংশে দর্শনার্থী দুই নেতার সঙ্গে একটি ছবি তুলতে পারেন এবং একটি ভিডিও প্রশংসাপত্র রেখে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারেন।

আরও পড়তে পারেন

বাংলাদেশ থেকে প্রথম চালানে সাড়ে ৭৮ মেট্রিক টন ইলিশ এল ভারতে

বাংলাদেশে পঁচাত্তর-পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে: নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী

পুজো উপলক্ষ্যে ভারতে ২ হাজার টন ইলিশ রফতানি করবে বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপুঞ্জে এ বারেও বাংলায় ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ সোমালিয়া-ইথিওপিয়া নয় যে ভোটে রাষ্ট্রপুঞ্জের সহায়তা লাগবে: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

৬ মাসে তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশি পেয়েছেন ভারতের মেডিক্যাল ভিসা

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের বন্ধন, বললেন বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন