এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি হলেন শাকিব, সেঞ্চুরি লিটনের, গুঁড়িয়ে গেল জিম্বাবোয়ে

0
সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি হলেন শাকিব।
শাকিবের বলে কাত জিম্বাবোয়ে। ছবি ICC Twitter থেকে নেওয়া।

বাংলাদেশ: ২৭৬-৯ (লিটন ১০২, আফিফ ৪৫, জঙউই ৩-৫১, মুজারাবানি ২-৪৭)    

জিম্বাবোয়ে: ১২১ (২৮.৫ ওভারে) (চাকাবভা ৫৪, টেলর ২৪, শাকিব ৫-৩০)

ঋদি হক

হারারে জয় বাংলাদেশের। ২৭৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়ের কোনো অংশেই মনে হয়নি জিম্বাবোয়ে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াবে। বরং বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে পড়ে নতমুখে একের পর এক সাজঘরে ফিরে যান জিম্বাবোয়ের ব্যাটসম্যানরা। লিটন দাসের ম্যাচসেরা ইনিংসের পাশাপাশি শাকিবের বোলিং এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। সাকিবের ৫ উইকেটের কল্যাণে জিম্বাবোয়ে ২৮.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১২১ রান করে থেমে যায়। শেষ ব্যাটসম্যান আহত থাকায় জিম্বাবোয়ের ইনিংস শেষ হয় এখানেই।

কোনো ভাবেই বাংলাদেশের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি জিম্বাবোয়ে। ওয়ানডে সুপার লিগের ৩০ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্যে শুরুটা হল প্রত্যাশামতোই। প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবোয়েকে সহজেই ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। ভালো লেন্থের বলে শুরু থেকেই বাংলাদেশি পেসারদের সামনে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল জিম্বাবোয়েকে। তাতে আসে সাফল্যও। অভিষেকেই শূন্য হাতে ফেরেন মারুমানি। সাইফউদ্দিনের ভালো লেন্থের বল কাট করতে গিয়েছিলেন। বল ব্যাটের কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে।

অথচ টস হেরে বাংলাদেশের ব্যাটিং যে ভাবে শুরু হল তাতে মনে হয়নি, এই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে অসাধারণ ভাবে। জিম্বাবোয়ের বোলারদের সামনে টপ-অর্ডারের ব্যর্থতার পর লিটন দাস নিজের স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে সময়োপযোগী এক ইনিংস খেলেন। ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়েকে সামনে পেয়ে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর তার সেই ইনিংসটাতেই বাংলাদেশ পায় লড়াই করার মতো পুঁজি।

জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে করে ২৭৬ রান। তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসানদের ব্যর্থতার ভিড়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে লিটন খেলেছেন ১০২ রানের ঝলমলে ইনিংস। শেষ দিকে আফিফ হোসেনের (৩৫ বলে ৪৫) ঝড় ও মেহেদি হাসান মিরাজের (২৫ বলে ২৬) কার্যকর ব্যাটিংয়ের আগে মাহমুদউল্লাহর (৫২ বলে ৩৩) লড়াকু ব্যাটিংই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের হাইলাইটস। জিম্বাবোয়ের হয়ে ৫১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন লিউক জঙউই। দু’টি করে নিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা। একটি নিয়েছেন টেন্ডাই চাতারা।

সেঞ্চুরির পরে লিটন দাস।

জিম্বাবোয়ের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে উইকেট-উৎসবে যোগ দেন পেসার তাসকিন আহমেদও। তার বলে মিডল স্টাম্প উপড়ে যায় ৯ রানে ব্যাট করতে থাকা ওপেনার মেধেভেরের। ডিয়োন মায়ার্স অবশ্য অধিনায়ক টেলরকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু যে শটে আউট হলেন, সেটাকে দুর্ভাগ্য বলতেই হবে। শরিফুলের বল পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ধরা পড়েন মোসাদ্দেকের হাতে। ২৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৮ রান করেছিলেন অভিষিক্ত মায়ার্স।

‘টপ এজ’-এ ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামা ব্রেন্ডন টেলরকেও। দৃঢ়চেতা মনে হলেও শাকিবের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। স্লগ সুইপ করতে গিয়েই বল টপ এজ হয়ে জমা পড়ে তাসকিনের হাতে। মাইলফলকের ম্যাচটা রাঙানো হল না তাঁর। ফিরে গেলেন ২৪ রানেই। তাঁর উইকেট নিয়েই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি হয়ে যান শাকিব। টপকে যান মাশরাফি বিন মুর্তজাকে।

এর পর অনেক কিছু নির্ভর করছিল রায়ান বার্ল ও চাকাবভা জুটির ওপর। তাতে হতাশই করেছেন বার্ল। ১৭ বল খেলে ৬ রানে ক্যাচ উঠিয়ে দেন আফিফ হোসেনকে। মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলা জিম্বাবোয়ে এর পর উইকেট হারাতে থাকে একের পর এক। রান-আউটে বিদায় নেন লুক জঙউই, ব্লেসিং মুজারাবানিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে তৃতীয় উইকেট পকেটে পুরেন সাকিব। অপর প্রান্ত আগলে চাকাভা হাফসেঞ্চুরি তুললেও হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া সেটি আর কোনো ভূমিকা পালন করেনি। হাফ সেঞ্চুরিয়ান এই কিপারকেও মেহেদির তালুবন্দি করিয়েছেন শাকিব। এর পর রিচার্ড এনগারাভাকে গ্লাভসবন্দি করিয়ে জিম্বাবোয়ের ইনিংসটাই শেষ করে দিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে দুঃসময় কাটানো এই অলরাউন্ডার বল হাতে পুষিয়ে দিলেন সব অপূর্ণতা। ৯.৫ ওভারে ৩ মেডেনে ৩০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। একটি করে নিয়েছেন তাসকিন, সাইফউদ্দিন ও শরিফুল।

আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে ঈদযাত্রা, মহাসড়কে মহাজট, ৪ ঘণ্টার পথ পেরোতে লাগল ২০ ঘণ্টা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন